Advertisement
E-Paper

প্রাণভয়ে চুপ পর্যবেক্ষক, শান্তির ভোট আমগাছিয়ায়

আমগাছিয়ায় একটি বুথের বাইরে চেয়ার পেতে বসে ছিলেন মাইক্রো-অবজার্ভার। কাকে যেন ফোনে বলছিলেন, সকালেই তাঁকে কয়েক জন যুবক এসে রিভলভার দেখিয়ে গিয়েছে। তার পরে কেন্দ্র থেকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বসানো হয়েছে তাঁকে। ফোনেই তাঁর উক্তি, “প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারিনি।” কীসের প্রতিবাদ? ওই মাইক্রো-অবজার্ভার ফোনে কোনও পরিচিতকে আরও যে বিবরণ দিলেন, তা হল সাত সকালেই আমগাছিয়ার ওই ভোটকেন্দ্রের ৩টি বুথ দখল করে নিয়েছিল শাসক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায় ও দেবাশিস দাস

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০১৪ ০৩:৪৮

আমগাছিয়ায় একটি বুথের বাইরে চেয়ার পেতে বসে ছিলেন মাইক্রো-অবজার্ভার। কাকে যেন ফোনে বলছিলেন, সকালেই তাঁকে কয়েক জন যুবক এসে রিভলভার দেখিয়ে গিয়েছে। তার পরে কেন্দ্র থেকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বসানো হয়েছে তাঁকে। ফোনেই তাঁর উক্তি, “প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারিনি।”

কীসের প্রতিবাদ? ওই মাইক্রো-অবজার্ভার ফোনে কোনও পরিচিতকে আরও যে বিবরণ দিলেন, তা হল সাত সকালেই আমগাছিয়ার ওই ভোটকেন্দ্রের ৩টি বুথ দখল করে নিয়েছিল শাসক দলের কর্মী-সমর্থকরা। একের পর এক ভুয়ো ভোট পড়তে থাকে। সেই ঘটনারই প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। তার পরেই রিভলভার-দর্শন! তবে সংবাদমাধ্যমের কাছে অবশ্য এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি ওই মাইক্রো-অবজার্ভার। এ নিয়ে রিপোর্ট দেবেন কি না, তা-ও পরিষ্কার করে জানালেন না। তবে ফোনে পরিচিতকে বলা বক্তব্যে পরিষ্কার, তাঁকে হুমকির মুখ থেকে বাঁচাতে আসেনি পুলিশও!

ঠিক যেমন বুথে বহিরাগতদের ঢুকতে দেখে কিংবা ভোটকেন্দ্রের দশ পা দূরে দিনভর জটলা দেখেও কাউকে সরায়নি পুলিশ। বরং নিজেদের মধ্যেই গল্পে মশগুল থেকেছে। আর সাংবাদিকদের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বলেছেন, “এখানে ভোট শান্তিপূর্ণ।”

সোমবার অবশ্য ডায়মন্ড হারবারের ভোটে মুখ্য বিষয় ছিল আমগাছিয়ার এই শান্তিপূর্ণ ভোটই। সাতসকালে বাম প্রার্থী আবুল হাসনাতকে ফোনে ধরতেই বলেছিলেন, “বিষ্ণুপুরে গোলমালের খবর পাচ্ছি।” পরে আমতলার দলীয় অফিসে বসে বাম প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ীর অভিযোগ, সকাল ন’টাতেই আমগাছিয়ার ১১টা বুথ দখল করে নিয়েছে তৃণমূল। একই দাবি করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী কামরুজ্জামান কামার ও বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ (ববি) দাসও। কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকা ও থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ আমগাছিয়ায় গিয়ে দেখা গেল, চার দিক সুনসান। ভোটকেন্দ্রে একটু দূরেই সিপিএম ও তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে বসে রয়েছেন কিছু যুবক। গাড়ি থামতেই ঘিরে ধরলেন তাঁদের কয়েক জন। কিছু বলার আগেই বললেন, “এখানে কোনও গোলমাল নেই। ওই তো সিপিএমের ছেলেরা বসে রয়েছে।”

সিপিএমের ক্যাম্পে তখন দলীয় পতাকা মাথায় বেঁধে বসে রয়েছেন তিন জন। “আপনারা কি সিপিএম-কর্মী?” প্রশ্ন শুনে নিজেদের মধ্যে খুব একচোট হেসে নিয়ে বললেন, “আমরাই সিপিএম।” বুঝলাম, প্রশ্ন বাড়িয়ে লাভ হবে না! একটু এগোতেই দেখলাম, ভোটকেন্দ্রের সামনে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের গাড়ি। সেই দলে থাকা রাজ্যের লিয়াজঁ অফিসার বললেন, “অভিযোগ পেয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কোনও প্রমাণ পাইনি।” পর্যবেক্ষক নটরাজন অবশ্য তত ক্ষণে মাইক্রো-অবজার্ভারের খোঁজ করছেন। কিন্তু কোথায় তিনি!

এর পরেই এলেন সবুজ টি-শার্ট পরা এক যুবক। আঙুলে চওড়া কালির দাগ! তিনি বুথের দরজায় গেলেন, ভোটারদের সঙ্গে কথা বললেন, আবার বেরিয়েও গেলেন। সামনে দাঁড়ানো রাজ্য পুলিশের জওয়ানরা ঘুরেও তাকালেন না!

বিকেল পাঁচটা। আমগাছিয়া অবৈতনিক ও লালবাহাদুর জিএসএফপি স্কুলে তখনও ভোটার আসছেন। তাঁদের প্রায় বুথে ঢুকিয়ে দিয়ে আসছেন তৃণমূল সমর্থকরা। কেমন হচ্ছে ভোট? প্রিসাইডিং অফিসাররা জানালেন, প্রতিটি বুথেই বিকেল পাঁচটার মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এক প্রিসাইডিং অফিসার শাসক দলের এজেন্টের দিকে এক বার তাকিয়ে বললেন, “ভালই তো।” লালবাহাদুর জিএসএফপি স্কুলের প্রায় বারান্দা ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জনা চারেক যুবক।

diamond harbour debasish das kuntak chattopadhyay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy