কলকাতায় বড়দিন ও তার আগের রাতের তুলনায় বছরের শেষ রাত ও বর্ষবরণের দিনে অভব্য আচরণ এবং ট্র্যাফিক আইন ভাঙার অপরাধে গ্রেফতারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি মিলিয়ে মোট ৩৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ট্র্যাফিক আইন ভাঙার অপরাধে মোট ১,৯৬২টি মামলা রুজু করা হয়েছে।
গত ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বরের রাতে অভব্য আচরণের অভিযোগে মোট ২৬৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই তুলনায় ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারির রাতে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও ৭০ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৩৮-এ। ২৫ তারিখ অর্থাৎ বড়দিনে মোট ১১ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তার তুলনায় ১ তারিখ অর্থাৎ বছরের প্রথম দিন প্রায় ৬ লিটার বেশি (১৬.৯৫ লিটার) মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৪ কেজি বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
একই রকম ভাবে, ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাফিকবিধি ভাঙার অভিযোগ বড়দিন ও তার আগের রাত মিলিয়ে ৭৯৪টি পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই তুলনায় বছরের শেষ রাত ও বর্ষবরণের দিন ট্রাফিকবিধি ভাঙার অভিযোগে অতিরিক্ত ১১৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েযে। দু’দিন মিলিয়ে মোট ১৯৬২টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ করা হয়েছে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর ঘটনায়। ৩১ ও ১ তারিখ মিলিয়ে ৬৯২টি ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করা হয়েছে। যা বড়দিনের তুলনায় ৫০৫ বেশি। এর পরেই রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মত্ত হয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগ। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ২৮৭টি ঘটনায় এবং মত্ত হয়ে গাড়ি চালানোর ২৪৪টি ঘটনায় পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া বাইকে তিন জন মিলে ঘোরার জন্য ১৪০টি ক্ষেত্রে জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিটির ক্ষেত্রে ২৪ ও ২৫ তারিখের তুলনায় সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
এক ট্র্যাফিক আধিকারিকের কথায়, “বড়দিনের তুলনায় ৩১ ডিসেম্বর শহরজুড়ে নজরদারি বেশি থাকে। ২৪ ও ২৫ তারিখ জায়গাভিত্তিক নজরদারি হয়। তার তুলনায় বছরের শেষ রাত ও বর্ষবরণের দিন নজরদারির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ১ জানুয়ারি বিভিন্ন জেলা থেকে শহরে ভিড় জমে। এর ফলে ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। যার ফলে রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।” ডিসি ট্র্যাফিক কথায়, “রাস্তায় বেরোলে ট্র্যাফিক আইন সর্বদা মেনে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমসময় জ়িরো টলারেন্স নীতিই থাকে।”
উল্লেখ্য, কলকাতায় ভিড়ের লড়াইয়ে বড়দিনকেও টেক্কা দিল ১ জানুয়ারি। সকাল থেকে শহরের দর্শনীয় স্থানগুলিতে উৎসাহী জনতার ভিড় লেগে ছিল। দিনের শেষে পরিসংখ্যান বলছে, বড়দিনের চেয়েও বেশি মানুষ ১ জানুয়ারি উদ্যাপন করতে বেরিয়েছিলেন শহরে। ভিড় হয়েছে মূলত ইকো পার্কে (৬৬,৪৯৪ জন)। বড়দিনের চেয়ে প্রায় ১৬ হাজার বেশি। বছরের প্রথম দিনে চিড়িয়াখানার জনসমাগম ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মোট ৫২,৩৪১ জন ১ জানুয়ারি চিড়িয়াখানায় কাটিয়েছেন। ভিড় হয়েছিল ভিক্টোরিয়া, সায়েন্স সিটি, জাদুঘর ও নিক্কোপার্কেও। এ ছাড়াও শহরের অনেক জনপ্রিয় কেন্দ্রে বছরের প্রথম দিন উদ্যাপন করেছে উৎসাহী জনতা। বাড়তি ভিড় হয়েছে খাবারের দোকানগুলিতে।