কয়লাপাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে বেশ কয়েক বার লালাকে তলব করা হয়েছে। কিন্তু প্রতি বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। কয়লা খাদান থেকে বেআইনি ভাবে কয়লা তুলে পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত লালাকে ইসিএল, সিআইএসএফ এবং রেলের একাংশ সাহায্য করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সিবিআই।
২০২৪ সালের আসানসোল আদালত লালাকে আত্মসমর্পণের নোটিস দেয়। তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বলেন বিচারক। তবে এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন লালা। শর্ত ছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের তদন্তে সহায়তা করতে হবে এবং নিম্ন আদালতের নির্দেশ পালন করতে হবে। তা ছাড়া এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না তিনি।
ইডি-র একটি সূত্রে খবর, সম্প্রতি লালাকে তারা হেফাজতে নিতে চাইলেও ‘প্রতিবন্ধক’ হয় রক্ষাকবচ। এ জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। মঙ্গলবার সেই ছাড়পত্র পেল ইডি।
আরও পড়ুন:
অনুপ ওরফে লালার জন্ম পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের নিতুরিয়ার ভামাড়িয়ায়। বর্তমানে সেখানেই থাকেন। একদা দরিদ্র পরিবারের সন্তান লালা মাছের ব্যবসা করেছেন। কাজের খোঁজে তিনি চলে গিয়েছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের সালানপুরে। সেখানেই কয়লা মাফিয়া লালার হাতেখড়ি। সিবিআই দাবি করে, লালার সঙ্গে জয়দেব মণ্ডল, বিনয় মিশ্রেরা কোটি কোটি টাকার কয়লাপাচারে যুক্ত। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন নানা ক্ষেত্রের প্রভাবশালীরা। সেই তালিকায় জেলাস্তরের নেতানেত্রীও যেমন রয়েছেন, তেমনই আছেন রাজ্যস্তরের নেতাও। লালার ‘সঙ্গী’ বিনয় মিশ্র দীর্ঘ দিন ধরে ‘পলাতক।’ তিনি এখন ভিন্দেশের বাসিন্দা। জয়দেব কয়লাপাচার কাণ্ডে জেল খাটলেও এখন জামিনে রয়েছেন। একমাত্র লালাকে কখনও এই মামলায় হেফাজতে পায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।