আরজি করে খুন এবং ধর্ষণের মামলায় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের আইনজীবী জানান, পুলিশ এবং সিবিআই— উভয়ের ভূমিকাই খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে এর সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। আইনজীবীর বক্তব্য, পরিবার চাইছে সেই দিকটিও খতিয়ে দেখুক আদালত। মঙ্গলবার এই মর্মে শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। আগামী দিনে তাঁদের আবেদনের শুনানি হবে।
মঙ্গলবার নির্যাতিতার বাবা-মা দু’জনেই শিয়ালদহে আদালতে যান। তাঁদের আইনজীবীও ছিলেন সঙ্গে। নিহত মহিলা চিকিৎসকের বাবা-মায়ের বক্তব্য, কিছু বিষয় তদন্ত করে দেখা দরকার। সেগুলি যাতে তদন্ত করে দেখা হয়, তাঁরা সেই আবেদন জানান কোর্টে। এই আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে শুনানি হবে বলে জানা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। প্রথমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। কলকাতা পুলিশের হাতে ধৃত সিভিককে হেফাজতে নেয় তারা। পরবর্তী সময়ে শিয়ালদহ আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। তাতে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে সঞ্জয়ের নামই উল্লিখিত ছিল। তাঁকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা দাবি করেছেন, গোটা ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মাসেই নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী শিয়ালদহ আদালতে জানান, এই মামলার তদন্তে নির্যাতিতার পরিজনেরা খুশি নন, অভিযুক্তেরা খুশি না। শুধু যাঁরা তদন্ত করছেন, তাঁরা বলছেন, সব ঠিক আছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য।
গত মাসে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং হত্যা মামলায় শিয়ালদহ আদালতে অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট (তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট) জমা দেয় সিবিআই। তবে সেই স্টেটাস রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলে নির্যাতিতার পরিবার। তাদের আইনজীবী দাবি করেন, এই রিপোর্টে ‘ফলপ্রসূ’ কিছু নেই। কেন নির্যাতিতার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে না, কাদের বাঁচানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নও তোলা হয়। যদিও সিবিআইয়ের পাল্টা বক্তব্য ছিল, কাকে ডাকা হবে, কাকে নয়, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।