E-Paper

নথি যাচাইয়ে জেলাশাসকদের নিজেদের ‘দল’

জেলা প্রশাসনগুলি জানাচ্ছে, শুনানিতে ভোটারদের থেকে যে নথি জমা পড়বে, তা আপলোড হবে কমিশনের নিজস্ব সফটওয়্যারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের শুনানিতে ভোটারদের দাখিল করা নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব জেলাশাসকদের দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নথি হাতে পাওয়া থেকে পাঁচদিনের মধ্যে সেই নথিগুলি যাচাই করে রিপোর্ট দিতে হবে কমিশনকে। বিপুল এই কাজ একা কোনও অফিসারের পক্ষে করা কার্যত অসম্ভব। তাই একজন জেলাশাসককে নিজেদের দল তৈরি করতে হচ্ছে যাচাইয়ের আগে। যা পরিস্থিতি, তাতে একটি জেলায় এমন অন্তত ২০টি করে ‘লগইন আইডি’ তৈরি করতে হচ্ছে। যা দেওয়া হবে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম), এসডিও এবং তেমন স্তরের আধিকারিকদের। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে একেকজন অফিসারের ভোটার কার্ডের ভিত্তিতেই তৈরি করতে হচ্ছে সেই ‘লগইন আইডি’।

জেলা প্রশাসনগুলি জানাচ্ছে, শুনানিতে ভোটারদের থেকে যে নথি জমা পড়বে, তা আপলোড হবে কমিশনের নিজস্ব সফটওয়্যারে। তখনই এই ‘লগইন আইডি’-গুলিতে নথিগুলি পৌঁছে যাবে। তার পরে আধিকারিকেরা শুরু করবেন পৃথক যাচাইয়ের কাজ। যে নথি যে দফতর থেকে দেওয়া হয়েছে, সেই দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈধতা যাচাই করতে হবে। ভিন্ন জেলার নথি হলে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে তা পাঠিয়ে বৈধতা জানতে হবে। জাতীয় কোনও বিভাগের নথির ক্ষেত্রে সেই বিভাগ বা মন্ত্রকের সঙ্গে করতে হবে যোগাযোগ। ফলে এই বৃত্তে থাকা প্রত্যেক দফতর, বিভাগ বা প্রশাসনকেও সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি খতিয়ে দেখে বৈধতার তথ্য জানিয়ে দিতে হবে সেই জেলাশাসককে। তিনি রিপোর্ট কমিশনকে পাঠালে সেই অনুযায়ী তখন শুনানির আওতায় থাকা ভোটারের বৈধতা বিবেচনা করা হবে। কোথাও কোনও গরমিল বা ইচ্ছাকৃত অসাধু হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটলে জবাবদিহি করতে হবে সেই জেলাশাসককেই।

নথি নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠার পরে এই পদক্ষেপ করেছিল কমিশন। জেলাশাসকদের বলে দেওয়া হয়েছে, নথি হিসাবে পাসপোর্ট দাখিল হলে সেটাও সংশ্লিষ্ট বিভাগের থেকে খতিয়ে দেখতে হবে। এর সঙ্গে রয়েছে বৈদেশিক আঞ্চলিক পঞ্জিকরণ শাখা বা এফআরআরও। তারা জানাবে, সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট থাকা ব্যক্তি আসলে এ দেশেরই নাগরিক কি না। কমিশন সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, তাদের তালিকাভুক্ত নথিগুলির বাইরে অন্য কোনও নথি গ্রাহ্যই করা হবে না। এমনকি, বুধবারই জেলাশাসকদের কমিশন এ-ও বলে দিয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত যে ওবিসি শংসাপত্রগুলি আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছিল, তা নথি হিসাবে গ্রাহ্য হবে না। ২০১০ সালের আগে যে নথিগুলিকে আদালত মান্যতা দিয়েছে, একমাত্র সেগুলিই গ্রাহ্য হবেভোটারের বৈধতা যাচাইয়ের মানদণ্ডে। ফলে শুনানিতেদাখিল হওয়া এমন শংসাপত্রগুলিও পৃথক ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে জেলাশাসক এবং তাঁর অধীনে থাকা আধিকারিকদের দলকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

District magistrate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy