E-Paper

তালিকা-বহির্ভূত নথি? ফর্ম ফেরত

কমিশনের তরফে যে বার্তা জেলা-কর্তারা পেয়েছেন, তাতে এমন অনেক নথি এসআইআর শুনানিতে ঢুকে পড়েছে, যেগুলি নথিবদ্ধ ১৩টি নথির মধ্যে একটিও নয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ভোটার এবং আধার কার্ডের প্রতিলিপি নিয়ে শুনানিতে এসেছেন ভোটারেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৯

— প্রতীকী চিত্র।

যুক্তিগ্রাহ্য বা তথ্যগত গরমিল বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র শুনানিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত নথির বাইরে যত নথি দাখিল করেছিলেন জেলা আধিকারিকেরা, তার সব তাঁরা ফিরিয়ে নিতে শুরু করলেন। নথি যাচাইয়ে নবনিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরা এই গরমিল ধরে কমিশনকে রিপোর্ট দিচ্ছেন। সেই রিপোর্ট পেয়েই তড়িঘড়ি এ সব ফেরানো শুরু হয়েছে। কারণ, ভুল নথি গ্রাহ্য করলে দায় জেলা আধিকারিকদেরই। তবে এই পদক্ষেপে অনেক ভোটারের নথি-সমস্যা আরও বাড়ল। কমিশনের বক্তব্য, তাঁরা এসআইআর শুরুর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তালিকাবদ্ধ নথির বাইরে আর কিছু গ্রাহ্য হবে না। তাই প্রশ্ন উঠছে, জেলাগুলিতে শুনানির দায়িত্বে থাকা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), এইআরও-রা জেনেশুনেও কেন এই সব নথি গ্রহণ করেছিলেন? এর ফলে মানুষের যে হয়রানি হবে, তার দায় কার?

কমিশনের তরফে যে বার্তা জেলা-কর্তারা পেয়েছেন, তাতে এমন অনেক নথি এসআইআর শুনানিতে ঢুকে পড়েছে, যেগুলি নথিবদ্ধ ১৩টি নথির মধ্যে একটিও নয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ভোটার এবং আধার কার্ডের প্রতিলিপি নিয়ে শুনানিতে এসেছেন ভোটারেরা। ভোটার কার্ড গ্রাহ্য করছে না নির্বাচন কমিশন। আধার কার্ড দিলে তার সঙ্গে দ্বিতীয় কোনও নথি দিতে হবে। এ ছাড়াও, কোনও ব্যাঙ্কের পাশবই, জমি রেজিস্ট্রেশনের কাগজ, একশো দিনের কাজের প্রকল্পের (মনরেগা) জবকার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ইত্যাদি নিয়ে এসেছেন ভোটারেরা। নির্বাচন কমিশনের বিচারে, ভোটার-যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে সেই নথিগুলি বৈধ নয়।

শুনানির সময়ে দাখিল হওয়া এই সব নথি কমিশনের প্রযুক্তিতে আপলোড করা হয়েছিল এবং তা পুনর্যাচাইয়ের জন্য পৌঁছে গিয়েছিল জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে। কমিশনের বার্তা— এগুলি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই সমস্ত নথি তড়িঘড়ি ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জেলাগুলি থেকে জানা গিয়েছে।

কিছু দিন আগে আরও চার জন সিনিয়র আইএএস অফিসারকে এসআইআরের কাজে বিশেষ রোল-পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে কমিশন। যাঁরা কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের পদস্থ কর্তাও। এই আধিকারিকদের যাচাইয়ে এই সব নথি-গরমিল ধরা পড়েছে। তাঁরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছেন কমিশন ও সিইও দফতরকে। সেই রিপোর্টই ঘুরে পৌঁছচ্ছে জেলা-কর্তাদের কাছে।

প্রশ্ন হল, যেগুলি তালিকায় ছিল না, সেই সব নথিগুলি গ্রহণ করা হল কেন? জেলা-কর্তাদের একাংশ বলছেন, “একটা সময়ে ঊর্ধ্বতনের থেকে চাপ ছিল, কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। যে নথিই থাকুক না কেন, তা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু কমিশনের যাচাই যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে বিধিবদ্ধের বাইরে কোনও নথি গ্রহণই করা যাচ্ছে না। তাই সেগুলি ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে এখন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision SIR hearing West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy