রাজ্যে পালাবদলের পরে নানা জায়গায় বিজেপির বিরুদ্ধে হুজ্জুতির অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এই প্রেক্ষিতে যাবতীয় অশান্তির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করার পাশাপাশি রাজ্যে পালবদলের পরে গেরুয়া আবির মেখে ‘হঠাৎ বিজেপি’ যাওয়া লোকজনের দলে স্থান হবে না বলে সোমবার ফের স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘হঠাৎ বিজেপি’-দের ঠেকাতে দলের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় স্তরে সজাগ থাকার কথাও বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে শমীক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের তরফে একটি হেল্প লাইন নম্বর প্রকাশ করবেন, সেখানে অশান্তি-সহ নানা অভিযোগ জানানো যাবে। ফলপ্রকাশের পরে এবং এ দিন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির সবিস্তার কথাও হয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি এ দিন বলেছেন, “৪ মে দুপুর ১২টার পরে কেউ কেউ আবির মেখে, বিজেপির পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। তাঁদের কারও দলে জায়গা হবে না। রাজ্য সভাপতি হিসাবে বলছি, এটা আটকাতে স্থানীয় নেতাদের সজাগ থাকতে হবে।” তাঁর সংযোজন, “যাঁরা হঠাৎ বিজেপি হচ্ছেন, যাঁরা (দলের) পতাকা নিয়ে ঘুরছেন, যাঁরা সকালে তৃণমূল ও বিকেলে বিজেপি হয়েছেন, তাঁরা কেউ বিজেপি নন। কেউ এঁদের প্রশ্রয় দিলে তাঁদের দল থেকে বার করে দেওয়া হবে!” এই সূত্রে বিজেপিতে যোগদান-পর্ব এবং দলের গঠনতন্ত্র নিয়েও শমীক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বলেছেন, “এখন কাউকে দলে যোগদান করানো যাবে না। যত বড় নেতা বা সাংসদ, বিধায়ক হোন না কেন, কেউ এমন করলে তাঁকে চিহ্নিত করে দলের শৃঙ্খলা-রক্ষা কমিটি ব্যবস্থা নেবে। আমাদের কোনও শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠন নেই। কেউ কেউ বিজেপির পতাকা নিয়ে অটো-টোটো ইউনিয়ন দখল করছেন। এঁরা বিজেপির কেউ নন।”
ভোটের ফলপ্রকাশের পরে নানা জায়গায় বিজেপির বিরুদ্ধে হুজ্জুতি, অশান্তির অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। রাজ্য জুড়ে এমন কিছু ঘটনার জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করে শমীকের বক্তব্য, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাইতাম, তা হলে এত ক্ষণে বহু নেতা গণপিটুনিতে প্রাণ হারাতেন। তৃণমূলই তৃণমূলকে মেরে দিত। কিন্তু আমরা রাজধর্ম পালন করছি। তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের।” হিংসার রাজনীতি, বিজেপির নামে টাকা তোলা, গরিব মানুষের দোকানে হুজ্জুতির মতো ঘটনা ঘটলে পুলিশকে রং না-দেখে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলেও শমীক জানিয়েছেন। তাঁর সংযোজন, “এই অবস্থান ব্যক্তি শমীক ভট্টাচার্যের নয়। এই বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আমাকে ফোন করে বলেছেন।”
রাজ্যে পালাবদলের পরে নানা জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপরে হুজ্জুতি করার অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এই প্রেক্ষিতে শমীক বলেছেন, “কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপরে, দোকানে গিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে আক্রমণ চলবে না। এটা এই ধ্বনির অসম্মান। সরকারি স্থান দখল করে কোনও ধর্মস্থানও রাখা যাবে না।” বিষয়টি ভেঙে বলতে গিয়ে শমীকের মন্তব্য, “সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের পিছনে সরকারি জায়গা দখল করে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভিতরে মসজিদ রয়েছে। এগুলো চলতে পারে না। কেউ সরকারি রাস্তায় হনুমান মন্দির তৈরি করলে, তারও অনুমোদন দেওয়া হবে না।” পশ্চিমবঙ্গে নজরকাড়া ফলের নেপথ্যে শমীক এ দিন ফের দলের কর্মীদের আত্মত্যাগের কথা বলেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)