E-Paper

তলব কি প্রতীককে

কলকাতায় প্রতীকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানোর দিনই দিল্লির আইপ্যাক অফিস-সহ আরও কয়েকটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অফিস থেকে বেআইনি লেনদেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪১

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কয়লা পাচারের মামলায় আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের পাশাপাশি আরও দুই ডিরেক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদের তোড়জোড় চলছে বলে ইডি সূত্রে দাবি। সেই সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নগরপাল-সহ লালবাজারের পুলিশকর্মীদের উপস্থিতিতে তদন্ত ব‍্যাহত হওয়ার বিষয়টিও আদালতে জানিয়েছে ইডি।

ইডির এক কর্তা বলেন, “প্রতীকের বাড়িতে তাঁর মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপের সূত্র ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশকর্তারা আসার পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশকর্তারা চলে যাওয়ার পরে প্রতীকের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই বিষয়টি আদালতে জানানো হয়েছে।” প্রতীককে তলব করে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

প্রসঙ্গত, কলকাতায় প্রতীকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানোর দিনই দিল্লির আইপ্যাক অফিস-সহ আরও কয়েকটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অফিস থেকে বেআইনি লেনদেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিন নথিও রয়েছে। যা যাচাই করা হচ্ছে বলে দাবি।

ইডির দাবি, হাওয়ালার মাধ্যমে কয়লা পাচারের প্রায় ১০ কোটি কালো টাকা আইপ্যাক সংস্থায় বিনিয়োগ হয়েছিল। ওই টাকা আরও বেশ কয়েকটি সংস্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক কার্যকলাপেও খরচ করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি। তদন্তকারীদের কথায়, প্রাথমিক তদন্তে ওই সংস্থার বেশির ভাগ আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

তদন্তকারীদের কথায়, আইপ‍্যাকে প্রতীকের পাশাপাশি আরও দুই ডিরেক্টর রয়েছেন। তবে প্রতীক ওই সংস্থার সব থেকে পুরনো ডিরেক্টর। তদন্তকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার কাজের পাশাপাশি আইপ্যাকের আরও কার্যকলাপ রয়েছে। তাতেই আর্থিক লেনদেনের অস্বচ্ছতার নানা নথি হাতে এসেছে বলে দাবি। সেই জন‍্যই প্রতীকের পাশাপাশি আরও দুই ডিরেক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

ইডির এক কর্তা বলেন, “পেশাদার রাজনৈতিক পরামর্শের পাশাপাশি আইপ্যাক আরও কী ধরনের কাজে জড়িত তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। তাদের দিল্লির অফিস থেকে পাওয়া বেশ কিছু নথিপত্র ঘিরে নানা প্রশ্ন আছে। ওই সব নথির প্রেক্ষিতেই প্রতীক এবং সংস্থার আরও দুই ডিরেক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে।’’

ইডি সূত্রে খবর, ওই সংস্থার ডিরেক্টরদের ঘনিষ্ঠ একাধিক হাওয়ালা ব্যবসায়ীর বয়ান ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেই সব তথ‍্যসূত্র এবং দিল্লির অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথি মিলিয়েই প্রতীক-সহ আইপ্যাকের তিন ডিরেক্টরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা তদন্তকারীদের। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, “ওই সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কালো টাকা লগ্নি করা হয়েছিল বলে বেশ কিছু সূত্র মিলেছে। যা যাচাই করা হচ্ছে।” ইডি সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার দিল্লি ও কলকাতার ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযানে বাজেয়াপ্ত আইপ‍্যাক-বিষয়ক নথি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতেই পরের পদক্ষেপ করা হবে বলে দাবি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pratik Jain IPAC Enforcement Directorate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy