এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। চলছে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে ফের সাধারণ বদলি বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শিক্ষা দফতর। তবে তারা জানিয়েছে, প্রয়োজনে আপস বদলি বা পারস্পরিক বদলি (মিউচুয়াল ট্রান্সফার) করা যাবে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষকদেরও সাধারণ বদলি ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা বলেছে। যদিও এই বদলি এর আগেও স্থগিত রেখেছিল শিক্ষা দফতর।
স্কুলে ২০২১ সালের অগস্টে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলির জন্য উৎসশ্রী পোর্টাল চালু হয়েছিল। কিন্তু উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বেশ কিছু বেনিয়মের অভিযোগও ওঠে। এ-ও অভিযোগ ওঠে যে গ্রামের স্কুলগুলির বহু শিক্ষক শহরে চলে আসছেন। শিক্ষক ও পড়ুয়ার অনুপাত অনেক স্কুলেই ঠিক থাকছে না। সাধারণত, গ্রামের স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের সংখ্যা বেশি। তাই সেখানে শিক্ষকের সংখ্যাও বেশি থাকা দরকার। কিন্তু এই বদলির ফলে সেখানে শিক্ষক কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, শহরের স্কুলে পড়ুয়া অনুপাতে শিক্ষক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বদলি স্থগিত হয়। শিক্ষকেরা বলছেন, প্রথমে ছ’মাসের জন্য বদলি রাখা হয়েছিল। প্রতি ছ’মাস অন্তর সেই মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বদলি স্থগিত রাখা হয়েছিল। শিক্ষকদের দাবি, ২০১৯ সালের পর নিয়োগ হয়নি। বহু স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা কমেছে। বদলি চালু থাকলে সেই সব স্কুলে নতুন শিক্ষক আসতে পারেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, আপস বদলি বা পারস্পরিক বদলি চালু করার কথা বলা হলেও গত এক বছরে তা-ও বন্ধ আছে। অবিলম্বে সেই বদলি চালু করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকদের অনেকে। প্রধান শিক্ষকদের একাংশেরও বক্তব্য, পারস্পরিক বদলিতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাতের কোনও হেরফের হয় না। পঠনপাঠনেরও ক্ষতি হয় না। তাই কেন আপস বা পারস্পরিক বদলি কার্যকর করা হবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)