E-Paper

চিহ্নিত ‘অতি-সংবেদনশীল’ বুথ,ভয়মুক্ত ভোটের আশ্বাস শহরে

এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ও হাওড়ায় ৯৭ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। অজয় জানান, ভোটারদের আশ্বাস দিতে নিয়মিত টহলদারি চলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে বারোশো বুথকে ‘অতি-সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। হাওড়ারও মোট বুথের ৫০ শতাংশই ‘অতি-সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা, ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা, বুথে ঢোকা-বেরনোর রাস্তার পরিমাপ ইত্যাদি দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সমীক্ষা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই ‘অতি-সংবেদনশীল’ বুথের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কমিশন-কর্তারা।

সোমবার কলকাতা পুরসভায় প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ-সহ কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তারা। আলিপুরে দক্ষিণ কলকাতার ডিইও রণধীর কুমারের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার অতিরিক্ত নগরপাল সন্তোষ পাণ্ডে। হাওড়ায় সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া। ছিলেন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী এবং এসপি (গ্রামীণ) সুবিমল মণ্ডল।

স্মিতা জানান, ১৮৩৫টি বুথের মধ্যে ৮৩৭ বুথকে ‘অতি-সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব থেকে বেশি ‘অতি-সংবেদনশীল’ বুথ আছে শ্যামপুকুর কেন্দ্রে (৮০টি)। চারটি বহুতলেবুথ হচ্ছে।

এ ছাড়াও, নেতাজি ইনডোরে ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার তৈরি করা হবে। ভোটারেরা কমিশনের (১৯৫০) নম্বর ছাড়াও কলকাতা পুলিশের (১০০ এবং ১১২) নম্বরেও অভিযোগ জানাতে পারবেন। রণধীর জানান, দক্ষিণ কলকাতায় ১০৯৩টি বুথের মধ্যে চারশোরও বেশি বুথকে ‘অতি-সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এ বার রাজ্যে সব থেকে উত্তপ্ত আসন ভবানীপুর। সেখানে কি বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন? রণধীর বলেন, ‘‘শুধু ভবানীপুর নয়, সব কেন্দ্রে ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা হচ্ছে।’’

এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ও হাওড়ায় ৯৭ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। অজয় জানান, ভোটারদের আশ্বাস দিতে নিয়মিত টহলদারি চলছে। বহুতল এবং বস্তি এলাকায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। নাকা তল্লাশি চলছে। এ দিন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে আয়কর দফতরকে দেওয়া হয়েছে। স্মিতা জানান, ভোটের নিরাপত্তা নিয়েও নিয়মিত বৈঠক চলছে। ড্রোন দিয়ে নজরদারি করা যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্তোষ জানান, অতীতে ভোটে ঝামেলা পাকানো লোকজনকে ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। এ দিন পর্যন্ত কলকাতা থেকে ৩২টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ৈনগরপালের হুঁশিয়ারি, ‘‘ভোটে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। স্বাধীন ভাবে কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।’’ জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হচ্ছে।

এ দিন দীপাপপ্রিয়া জানান, ‘‘বাহিনীকে বুথে ও বুুথের বাইরে মোতায়েনের নির্দেশিকা এখনও কমিশন দেয়নি। সেই নির্দেশিকা হাওড়া থেকে ২৮ লক্ষ টাকা এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

North Calcutta South Calcutta Election Commission of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy