গ্রেফতারের আশঙ্কায় সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসি-কাণ্ডে গ্রেফতারের আশঙ্কায় হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অরূপের আইনজীবী কিশোর দত্ত। রক্ষাকবচের আবেদন করেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সোমবার সকালেই অরূপকে বিধাননগর থানায় তলব করা হয়েছে।
হাই কোর্টে আবেদন করে অরূপের বক্তব্য, ‘‘আমার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমিও যে কোনও সময় গ্রেফতার হতে পারি বলে আশঙ্কা করছি৷’’ তিনি আরও জানান, গত ১৩ মে অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার ৬ মাস পরে পুলিশ পদক্ষেপ করছে। সোমবারও তাঁকে তলব করা হয়েছে। অরূপের জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত। বিচারপতি বলেন, ‘‘গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকলে ক্রিমিনাল বেঞ্চে মামলা করুন। জরুরি মামলার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। স্বাভাবিক নিয়মে মামলা করুন। ঠিক সময়ে মামলা না উঠলে বলবেন।’’
রবিবার রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের বাড়িতে যায় পুলিশ। মেসি-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সোমবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়ার নোটিস দিতেই গিয়েছিল তারা। জানা গিয়েছে, বার বার বেল বাজালেও কেউ দরজা খোলেননি। তাই অরূপের বাড়ির দরজার বাইরে সেই নোটিস টাঙিয়ে দেয় পুলিশ।
সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ অরূপকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তলব করা হয়েছে। এই নিয়ে দু’বার। গত বৃহস্পতিবারও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়ান। আইনজীবী মারফত চিঠি পাঠিয়ে ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।
যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে দিন কয়েক আগে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। অরূপ-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন শতদ্রু। অরূপদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর হয়। যুবভারতীর ঘটনায় সমালোচিত হয়েছিল তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছিল, যুবভারতীতে আর্জেন্টিনা তারকা লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে ভিড় করেছিলেন বহু ব্যক্তি। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশৃঙ্খলার জেরে বহু দর্শক টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি। বিতর্কের মধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছিল অরূপ। এ বার রক্ষাকবচ চেয়ে দ্বারস্থ হলেন হাই কোর্টে।