×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

নাবালিকা ধর্ষণে ধৃত বাবা, মা-ও হেফাজতে

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঘাটাল ১৫ অগস্ট ২০২০ ০৫:৪৭
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

কন্যাশ্রী দিবস ছিল শুক্রবার। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা আগে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এক কন্যাশ্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল মেয়েটির বাবাকে। সব জেনেও চুপ থাকায় ওই নাবালিকার মাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সবটাই হয়েছে ওই দম্পতির মেজ মেয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে।

ঘাটালের একটি গ্রামের এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে। শুক্রবার ঘাটাল আদালত ধৃত দম্পতিকে ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এ দিন নির্যাতিতা কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তের বয়স বছর বাহান্ন। পেশায় মজুর। নিজের অল্প জমিও রয়েছে। তার চার মেয়ে। তিনজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েটি স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ওই পরিবারে হামেশাই অশান্তি হত। স্ত্রীকে মারধর করে ওই প্রৌঢ় বাড়ি থেকে বার করে দিত বলেও অভিযোগ। দিন কয়েক আগে ফের তেমন ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দম্পতির মেয়ে-জামাইয়েরা আসেন। তখন দিদি-জামাইবাবুদের সামনে ওই নাবালিকা জানায়, এক বছর ধরে বাবা তাকে ধর্ষণ করে আসছে। মা সব জেনেও কিছু বলে না।

Advertisement

খবর জানাজানি হতেই অভিযুক্তকে আটকে মারধর করে এলাকার লোক। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে থানায় নিয়ে আসে। নাবালিকার মেজদির অভিযোগের ভিত্তিতে পরে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের এক আধিকরিক জানান, বাবার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে। আর মায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা শুরু হয়েছে।

পরিবারের মধ্যেই নাবালিকার যৌন নিগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়। তবে নিজের বাবার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জেলায় সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি বলেই জানাচ্ছেন পুলিশের আধিকারিকেরা। সব জেনেও মায়ের চুপ থাকা ভাবাচ্ছে তাঁদের। পারিবারিক সম্মানহানি ও একঘরে হওয়ার ভয়েই মহিলা এতদিন মুখ খোলেননি বলে জানা যাচ্ছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর বিশ্বনাথ শাসমল বলেন, “শুক্রবার ওই নাবালিকার সঙ্গে দেখা করে কথা বলা হয়েছে। তার কাউন্সেলিংও হবে।”

নির্যাতিতা কিশোরী এখন মেজদির কাছেই আছে। এ দিন ফোনে অভিযুক্তের মেজ মেয়ে বলেন, ‘‘বাবার কঠোর শাস্তি চাই।’’

Advertisement