গোটা হাওড়া শহর জুড়ে ‘জতুগৃহে’র মতো যে সব কারখানা ও গুদাম গজিয়ে উঠেছে, সেগুলি চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করতে সেখানকার মেয়রকে নির্দেশ দিলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়।
শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় গত ছ’দিনে ছোট-বড় মিলিয়ে সাতটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দু’টি ঘটনায় ছুটে আসতে হয়েছে খোদ দমকলমন্ত্রীকে। মঙ্গলবার রাতে তেলকল ঘাটের উল্টো দিকে তিনটি কারখানায় যে আগুন লাগে, সেখানেও ঘটনাস্থলে এসেছিলেন শোভনবাবু। হাওড়া পুরসভা সূত্রে খবর, এলাকার পরিস্থিতি দেখে এর পরেই তিনি মেয়র রথীন চক্রবর্তীকে ওই তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। শোভনবাবু বলেন, ‘‘ওই তালিকা পাওয়ার পরে এলাকার কারখানা ও গুদামগুলির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজার ব্যাপারে আমরা পরিকল্পনা করব। দমকল আসার আগে যাতে প্রাথমিক ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে জন্যও সব বন্দোবস্ত করা হবে।’’
গত ছ’দিনে ফোরশোর রোড ও ক্যারি রোডের দু’টি গেঞ্জি কারখানা-সহ ৭টি জায়গায় আগুন লাগে। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ আগুনে ছাই হয়ে যায় তেলকল ঘাট সংলগ্ন নিত্যধন মুখার্জি রোডের তিনটি কারখানা। তার মধ্যে একটি বিস্কুটের কারখানা। অন্য দু’টির একটি প্লাস্টিকের ত্রিপল ও অন্যটি ফ্লোর টাইল্সের গুদাম। খবর পেয়ে রাতেই আসেন দমকলমন্ত্রী-সহ রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অরূপ রায় ও মেয়র রথীন চক্রবর্তী। শোভনবাবু অভিযোগ করেন, নিত্যধন মুখার্জি রোড সংলগ্ন গোটা এলাকা দাহ্য বস্তুর গুদামে ঠাসা। সরু রাস্তার পাশে ন্যূনতম অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই কারখানাগুলি চলছিল।
এ দিন তেলকল ঘাটের কাছে ওই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নীচে তখনও ধিকিধিকি আগুন। নেভানোর কাজ করছে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তেলকল ঘাটের উল্টো দিকে কয়েক একর জায়গার মালিকানা নিয়ে বিবাদ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অথচ ওই জমিতেই তৈরি হয়েছে দাহ্য বস্তুর গুদাম ও কারখানা। গত বছর ওখানে পাটজাত দ্রব্যের কারখানায় আগুন লাগে। পরে জানা যায়, সেটিরও দমকলের ছাড়পত্র ছিল না।
তা হলে কি অগ্নি-বিধি না মানার কারণেই কারখানা ও গুদামে আগুন বিধ্বংসী হয়ে উঠছে? হাওড়ার ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার অভিজিৎ পাণ্ডে বলেন, ‘‘অগ্নি-বিধি না মানার পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় আছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সব থেকে বেশি দরকার এ ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করা।’’
মেয়র রথীনবাবু বলেন, ‘‘বাম জমানায় শহরের মধ্যে জতুগৃহের মতো গড়ে ওঠা এই এলাকাগুলি সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। এই এলাকাগুলির তালিকা তৈরির জন্য দমকলমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। লাইসেন্স দফতরকে বলেছি তালিকা তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে। রাজ্য সরকারই এই সংস্কারের কাজ করবে।’’