Advertisement
E-Paper

মেসির পাঁচে পাঁচ! বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির, পেনাল্টি নষ্ট করেও জোড়া গোলে আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুলে দিলেন লিয়ো

বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারালেন লিয়োনেল মেসিরা। ৩৮ মিনিটে গোল করে বিশ্বকাপে নজির গড়লেন লিয়ো। নষ্ট করলেন পেনাল্টিও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০০:৩২
picture of football

লিয়োনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স।

আর্জেন্টিনা -২ (মেসি ২)

অস্ট্রিয়া - ০

জোড়া গোলে আবার নায়ক লিয়োনেল মেসি। ঠিক ৪০ বছর আগে এই ২২ জুন দিনটিকে দিয়েগো মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তুলে দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে। একই দিনে মেসি রচনা করলেন অন্য এক কীর্তি।

অস্ট্রিয়া ম্যাচেই বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে নিতে চেয়েছিলেন লিয়োনেল স্কালোনি। যে কোনও পেশাদার কোচ তাই চাইবেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচও ব্যতিক্রম নন। সোমবার দলকে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবল জনতার অবশ্য মাথাব্যথা ছিল না!

ফুটবলপ্রেমীদের নজরে ছিলেন মেসি। অপেক্ষায় ছিলেন মেসির বিশ্বরেকর্ডের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য একটি গোল দরকার ছিল লিয়োর। সহজতম সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজ়কে একসঙ্গে ট্যাকল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভার-এর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। পিছন থেকে ট্যাকল করাতেই সম্ভবত পেনাল্টি দেন তিনি। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ সন্তুষ্ট নন। তবে নজর ছিল মেসির দিকে। আর্জেন্টিনার অধিনায়কই পেনাল্টি মারতে এগিয়ে যান। গোটা স্টেডিয়াম তখন বিষ্ফোরণের অপেক্ষায়। কিন্তু গোল করতে পারলেন না মেসি! ডান পোস্টে শট মারেন। কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না! আটকে দিলেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। মেসি কি সহজ ভাবে নিয়েছিলেন?

মেসি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন ১৯ মিনিটেও। এ বার শ্লেগারকে প্রায় একা পেয়েও তাঁর গায়ে মারেন! মেসি-ভক্তেরা যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ততক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করে দিয়েছিল অস্ট্রিয়াও। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। যদিও আর্জেন্টিনার বক্সে তেমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি অস্ট্রিয়ার ফুটবলারেরা। দাপট অবশ্য আর্জেন্টিনারই বেশি ছিল। স্কালোনির দল নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি পাস খেলছে। পরিকল্পনার ছাপ ছিল প্রতিটি আক্রমণে।

মাহেন্দ্রক্ষণ এল ৩৮ মিনিটে। গোল করলেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে চতুর্থ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল এলএম টেনের। প্রতি আক্রমণে আলমাডা বল নিয়ে ফাইনাল থার্ডে ঢুকে যান। তিনি বাঁ দিকে মেদিনাকে বল দেন। তিনি বক্সের মাঝখানে ক্রস করেন। মেসি বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করলেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ছাপিয়ে গেলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকে।

পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে চাপ বাড়াতে শুরু করে অস্ট্রিয়া। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। দাপট বেশি ছিল আর্জেন্টিনারই। এই সময় ম্যাচের মেজাজ চড়তে শুরু করে। বাড়তে থাকে ফাউলের সংখ্যা। ছোট ছোট উত্তেজনা তৈরি হতে থাকে। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলান রেফারি। তবে প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই ব্যবধান বাড়ানো চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণও তৈরি হয়। তবু গোল আসছিল না। মরিয়া হলে স্কালোনি আক্রমণে ঝাঁজ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করেন। রোমেরোকে তুলে নিকোলাস ওটামেন্ডিকে নামিয়ে ডিফেন্স আরও একটু পোক্ত করার চেষ্টা করেন প্রথমে। তার পর ৬৪ মিনিটে একসঙ্গে নিকোলাস গঞ্জালেজ় এবং ইউলিয়ান আলভারেজ়কে নামিয়ে দেন। মাঝে মাঝে খেলার গতি কমিয়ে দিয়ে খেলার রাশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। ডালাসের গরমের জন্য হতে পারে। অথবা নকআউট পর্বের জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখার কারণেও হতে পারে।

বেশ ভাল খেলল অস্ট্রিয়া। বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের জায়গা দিচ্ছিলেন না অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডারেরা। ভাল আক্রমণ তৈরি করেও বক্সে ঢুকে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারেরা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার জন্য আর্জেন্টিনাকে খেলায় আরও বৈচিত্র্য আনতে হবে। না হলে বড় দলের বিরুদ্ধে সমস্যা হতে পারে। কাটিয়ে উঠতে হবে মেসি নির্ভরতাও।

সংযুক্ত সময়ে মরিয়া আক্রমণের ফল পেল আর্জেন্টিনা। বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার তিন জন ঢুকে পড়েন। আলভারেজ়ের শট বাঁচিয়ে দেন শ্লেগার। তিনি মাটিতে পড়ে যান। ফিরতি বল ধরে গোল করেন মেসি। এই গোলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে আর্জেন্টিনা শিবির। বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম গোল। এ বারেই দু’ম্যাচে পাঁচটি! শেষ মুহূর্তে হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন মেসি। বক্সের মাথায়। ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসির শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ
৩১ মিনিট আগে
Argentina Lionel Messi record Austria
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy