বিধানসভা ভোটের মুখে কলকাতা প্রেস ক্লাবে এসে প্রাক্তন বিধায়ক ও অধুনা কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রাম্জ (ভিক্টর) ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা-সহ নির্যাতনের নানা অভিযোগ তুললেন তাঁর স্ত্রী। পুরো বিষয়টিকে রবিবার সর্বসমক্ষে এনে ভিক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করেই ভিক্টর জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত মামলা আদালতের বিচারাধীন। তিনি রায়ের অপেক্ষা করবেন।
প্রায় তিন বছর আলাদা থাকছেন ভিক্টর ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী। বিভিন্ন ভিডিয়ো দেখিয়ে প্রিয়াঞ্জলি এ দিন প্রেস ক্লাবে অভিযোগ করেছেন, “স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে হয়েছিল। কিছু দিন পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আমাকে ইমরান বলে, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করতে হবে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তা করা হয় এবং আমার অন্য নামও দেওয়া হয়। এই সব নিয়ে বিবাদের পরে বার বার মারধর, বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া, গয়না, ফ্ল্যাট কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পণের জন্যও জোরাজুরি করা হত। একই ঘটনা ঘটাতেন শাশুড়িও।” তাঁর সংযোজন, “খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।” বিষয়টি ইতিমধ্যেই তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার থেকে মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন বলে দাবি। রাজনৈতিক নেতা হিসাবে ইমরানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও লাভ না-হওয়ার মতো নানা অভিযোগও তুলেছেন প্রিয়াঞ্জলি। যদিও ভিক্টরের পাল্টা দাবি, ‘‘যে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। প্রায় তিন বছর আমরা আলাদা থাকছি। উনি নিজেই আমার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছেন। আমাদের দুই সন্তান আছে, তারা খুবই ছোট। আমি এই তিন বছরে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলিনি, কারণ বর্তমান সময়েও উনি আমার স্ত্রী এবং মুখ খুললে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন ওঁকে হতে হবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বিচারে যা রায় হবে, মাথা পেতে নেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)