E-Paper

শুনানি শেষ, বহু বাদের আশঙ্কা শাসক দলের

শাসক দলের শীর্ষ সূত্রের দাবি, কমিশন মুখে যা-ই বলুক, নথি জমা নেওয়া এবং যাচাইয়ের কাজ গুটিয়ে ফেলে তারা নিজের মতো করে তালিকা তৈরি করছে। সুপ্রিম কোর্টের সব পরামর্শও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

আনুষ্ঠানিক ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানি-পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। আগামী সাত দিন চলবে নথি যাচাইয়ের কাজ। এমতাবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুনানির সুযোগ বা জমা পড়া নথি পর্যাপ্ত কি না, সে সব জানার সংস্থান না-রেখেই অনেক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তেমন কিছু হলে ফের আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শাসক দলের নেতৃত্ব। যদিও নির্বাচন কমিশন সূত্রের বক্তব্য, শুনানির জন্য দু’দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। কারও নথি ঠিক না-থাকলে তা-ও জানানো হয়েছে। এখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া চলবে।

শাসক দলের শীর্ষ সূত্রের দাবি, কমিশন মুখে যা-ই বলুক, নথি জমা নেওয়া এবং যাচাইয়ের কাজ গুটিয়ে ফেলে তারা নিজের মতো করে তালিকা তৈরি করছে। সুপ্রিম কোর্টের সব পরামর্শও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে না। কমিশনের আধিকারিকদের রবিবারের বৈঠকেও নথির ক্ষেত্রে ভোটারদের আর সুযোগ না-দিয়ে তালিকা এগোনার কথা হয়েছে এবং সব মিলিয়ে ৮০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় থাকা নিয়ে সংশয় থাকছে বলে ওই সূত্রের দাবি। বাস্তবে কী ঘটছে, তা দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত, এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আগে সওয়াল করে এসেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কমিশন সূত্রের বক্তব্য, এ পর্যন্ত দু’দফায় শুনানির সময় বাড়ানো হয়েছিল। প্রথম পর্বের শুনানির শেষ দিনের আগে যাঁরা আসেননি, তাঁদের পুনরায় জানানো হয়েছিল। তার পরে সময় বৃদ্ধির পরেও তাঁদের কেউ শুনানিতে আসেননি। কারও নথি ঠিক না-থাকলে তা-ও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও সেই অংশের কেউ উপযুক্ত নথি দাখিল করতে আসেননি। কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, এখন নতুন করে কোনও নথি দাখিল আর হবে না। কারণ, শনিবার শুনানির শেষ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখন যে নথি জমা হয়েছে, একমাত্র সেগুলিই পুনর্যাচাই এবং নিষ্পত্তি হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে কেউ চাইলে তখন আবার আবেদন করতে পারেন। ভোটের মনোনয়ন পর্যন্ত ‘যোগ‍্য’দের নাম তোলার সুযোগ আছে। যদিও তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির আশঙ্কা, চূড়ান্ত তালিকার পরে ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি বিধানসভা ভোটের আগে হবে না। ফলে, ‘যোগ্য’ হয়েও যাঁরা বাদ যাবেন, তাঁরা এ বার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না!

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে এ দিনই বিজেপির তরফে শিশির বাজোরিয়ার অভিযোগ, কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথ লেভল আধিকারিকদের (বিএলও) কাছে শুনানিতে ডাকা মুসলিমদের তালিকা চেয়েছিলেন। সেই তালিকা অত্যন্ত দ্রুত শাসক দল তৃণমূলের কাছে পাঠানোও হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়ম না-মেনে ডিইও শুনানিতে আসা ভোটারদের জমা দেওয়া নথির তালিকা উল্লেখ করে সেই সংক্রান্ত রসিদ (‘টোকেন’) তৈরি এবং তা বাড়ি-বাড়ি বিতরণের জন্য বিএলও-দের নির্দেশ দিয়েছেন অভিযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision SIR TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy