Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বিয়ের ফাঁদ পেতে প্রতারক ধরলেন দুই যুবতী

নুরুল আবসার
বাউড়িয়া ০৯ জুন ২০১৫ ০৩:৩৯
অঙ্কন: ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য

অঙ্কন: ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য

প্রেমের ফাঁদে পা দিয়েই ফেঁসে গেল বাহারুদ্দিন।

বেশ চলছিল। সে ঝাড়খণ্ডের। ‘প্রেমিকা’ বাউড়িয়ার। তিন মাস ধরে সকাল-বিকেল ফোন। মন দেওয়া-নেওয়া। ‘প্রেমিকা’ বিয়ের প্রস্তাব দিতেই আর দেখে কে!

সটান ট্রেনে চেপে হাওড়ায় হাজির বাহারুদ্দিন। কিন্তু কোথায় ‘প্রেমিকা’! কোথায় ‘শ্বশুরবাড়ির লোক’! প্ল্যাটফর্মে পা দিতেই জুটল হাতকড়া।

Advertisement

মাস চারেক আগে যে যুবতীর মোবাইলে ফোন করে ‘ব্যাঙ্ক ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে সে এটিএম কার্ডের নম্বর জেনে নিয়ে টাকা হাতিয়েছিল, পরে সেই যুবতীই যে তাঁর ‘প্রেমিকা’ সেজে অভিনয় করে যাচ্ছেন, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি বাহারুদ্দিন আনসারি। ঘোর কাটল বাউড়িয়া থানায় এসে। রেজিনা খাতুন নামে বাউড়িয়ার ফোর্ট গ্লস্টার এলাকার ওই যুবতীকে প্রতারণার অভিযোগে বাহারুদ্দিনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

তিন মাসের ‘প্রেম-পর্বে’ আগাগোড়া পুলিশ ও পরিবারের লোকজনকে পাশে পেয়েছেন রেজিনা। রেজিনার সমবয়সী মামি রূপা বেগমও বাহারুদ্দিনকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়েছেন। আর আগাগোড়া বাউড়িয়া থানার পুলিশ দু’জনকে ‘প্রেমে’ উৎসাহ দিয়ে গিয়েছে। বাহারুদ্দিন ধরা পড়ার পরে রেজিনা ও রূপা বলেন, ‘‘প্রায় তিন মাস ধরে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে শেষ পর্যন্ত ওকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরে কাউকে ঠকানোর আগে ও দু’বার ভাববে।’’

হাওড়ার গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সুকেশ জৈন বলেন, ‘‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে বলে শুনেছি। এ তো একেবারে সিনেমার মতো। চার মাস আগে ঠকে গিয়েও মহিলারা মনোবল হারাননি। তাঁদের মনের জোর ছিল বলেই প্রতারককে ধরা গেল। আমরা ধৃতকে জেরা করছি।’’ ধৃতকে সোমবার উলুবেড়িয়া এসিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়। তাকে ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি রেজিনার মোবাইলে ফোন করে বাহারুদ্দিন। ‘ব্যাঙ্ক ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে সে রেজিনার এটিএম কার্ড ‘রিনিউ’ করার সময় এসে গিয়েছে জানিয়ে পিন জেনে নেয়। একটি নতুন পিন দেয়। পর দিনই রেজিনা টের পান তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৮ হাজার টাকা গায়েব। তিনি ব্যাঙ্কে গিয়ে ঘটনার কথা জানান। তার পরেই বুঝতে পারেন, তাঁর টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। রেজিনা থানায় যান। থানা থেকে তাঁকে সিআইডিতে পাঠানো হয়। সিআইডি-র কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জানান।

কিন্তু মাসখানেক অপেক্ষার পরেও অভিযুক্ত ধরা না পরায় ফের থানায় যান রেজিনা। সেখানে জানতে পারেন, যে ফোন নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে এটিএম কার্ডের পিন জানতে চাওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরটি ঝাড়খণ্ডের। বিষয়টি নিয়ে তিনি মামির সঙ্গে কথা বলেন। রূপা বাহারুদ্দিনের নম্বরে ফোন করেন। তাঁকেও একই ভাবে বলা হয়— ‘ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বলছি’। তখন ফোন কেটে দিলেও পরে বাহারুদ্দিনের সঙ্গে কথা শুরু করেন রেজিনা-রূপা। পুলিশ তখন রেজিনা-রূপাকে বাহারুদ্দিনের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে তাকে ডাকার পরামর্শ দেয়। সেই মতো বাহারুদ্দিনের সঙ্গে ‘প্রেম’ শুরু করেন রেজিনা।

রেজিনা জানান, বাহারুদ্দিন কর্মাটাঁড়ে তার বাড়িতে যেতে বলেছিল। কিন্তু তাঁরা তাকে এখানে আসতে বললেও প্রথমে বাহারুদ্দিন রাজি হয়নি। শেষমেশ বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় বাহারুদ্দিন রাজি হয়। সেই টোপেই কেল্লা ফতে। রবিবার সকাল ১০টায় রাঁচি-হাতিয়া এক্সপ্রেস হাওড়া স্টেশনে ঢোকে। ট্রেন থেকে নামতেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বাহারুদ্দিন।

বিয়ে করতে এসে বরের ঠিকানা হল শ্রীঘরে।

আরও পড়ুন

Advertisement