আবেদন গ্রহণের প্রথম দিনেই অফলাইনে সাড়া পেয়েছে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’। আর রবিবার রাত ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হল রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াও। নির্ধারিত সময় মেনে রবিবার রাত থেকেই আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট পোর্টাল https://apas.wb.gov.in-এ প্রবেশ করে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারছেন। অফলাইনে আবেদনের চাপ কমাতেই এমন পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। কারণ, সরকারি সূত্র বলছে, প্রথম দিনে সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে অফলাইনে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। পোর্টালে থাকা লিঙ্কে গিয়ে ক্লিক করলেই খুলে যাবে বাঁদিকে স্বনির্ভর বাংলা এবং ডানদিকে বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের বিকল্প। যুবসাথীর ‘ক্লিক টু অ্যাপ্লাই’-তে গিয়ে ক্লিক করলে বাঁদিকে পরপর তিনটি বিকল্পের মাঝের অংশে দেখা যাবে ‘অ্যাপ্লাই অনলাইন’। সেখানে ক্লিক করলেই আবেদনের পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়া যাবে। ডানদিকে যুবসাথীতে আবেদন করতে গেলে কী কী নথিপত্র প্রয়োজন, তার তালিকা দেওয়া রয়েছে। যেখানে নিজের মোবাইল নম্বর দিলে একটি ওটিপি পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট মোবাইলে। সেই ওটিপি দিলেই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
আবেদন করতে গেলে প্রথমে পোর্টালে লগইন করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জাতিগত শংসাপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ় ছবি এবং একটি সাদা কাগজে নিজের নাম সই করে সেই কাগজের স্পষ্ট ছবি। সমস্ত নথি নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হবে। ওই ওটিপি নির্দিষ্ট স্থানে প্রদান করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। সফল ভাবে আবেদন জমা পড়লে আবেদনপত্রের প্রতিলিপি ডাউনলোড করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সেই কপি সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদন সংক্রান্ত কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে পোর্টালের নির্দেশিকা ভাল ভাবে পড়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট হেল্পডেস্ক নম্বরেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রকল্পটি ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবিবার থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনপত্র বিলির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে আয়োজিত ৭৬৯টি শিবিরে আসা ৬ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ ৬৬ হাজারই ‘যুবসাথী’। লক্ষ্মীর ভান্ডার ৩১ হাজার। এবং খেতমজুরদের আর্থিক সুবিধার জন্য আবেদন-খোঁজখবর মিলে প্রথম দিনের সংখ্যা সাড়ে ৩৬ হাজার।