করোনা-কালে দেশ জোড়া লকডাউনের সময়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোগান্তির স্মৃতি এখনও টাটকা। আগামী দিনে এ রাজ্যের কর্মপ্রার্থীরা যাতে এ রাজ্যের মাটিতেই অনেক বেশি করে কাজের সুযোগ পান, সে দিকে নজর দিতে শিল্পমহল এবং বণিকসভাগুলিকে আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এ দিন হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শুধু বঙ্গভাষী নয়, বঙ্গবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন কাজে নিয়োগের নীতি চাইছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বৈঠকে পাঁচলার বিধায়ক গুলশন মল্লিক ‘অভিযোগ’ করেন, জেলায় যে শিল্পগুলি গড়ে উঠছে, সেখানে ওড়িশা, বিহার থেকে কর্মী আনা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের কাজে নেওয়া হচ্ছে না। তা শুনে উপস্থিত শিল্পপতি ও বণিকসভার প্রতিনিধিদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আপনারা স্থানীয় কারিগর, শ্রমিকদের কাজে নিন।’’ শিল্পপতিরা জানান, স্থানীয়দের যদি প্রশিক্ষণ থাকে, তা হলে কাজে নিতে অসুবিধা নেই। এ কথা শোনার পরে গুলশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ করাও। ওঁরা (শিল্পপতিরা) প্রয়োজন মতো টাইম-টু-টাইম নিয়ে নেবেন। কিন্তু কাজের জন্য তো প্রশিক্ষিত হতে হবে।’’ শিল্পপতিরা জানান, এক সঙ্গে একশো জন প্রশিক্ষিতকে নিতেও তাঁরা রাজি।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এক দিকে আজই স্বীকার করেছেন যে, শিল্পায়নে সব থেকে বড় বাধা জমি-সমস্যা। যে রাজ্যে বিনিয়োগ নেই, সেখানে কর্মসংস্থান হবে কী করে?’’
দেশ জোড়া লকডাউনের সময়ে ভিন্ রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছিলেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল রাজ্যকে। বেশ কয়েক জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড ওয়ারিয়র্স হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন এ রাজ্যে বাস করছেন, এখানে ভোটার ও আধার কার্ড রয়েছে, অর্থাৎ এ রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁদের কর্মসংস্থানে কোনও জাতপাত, ধর্ম দেখা হবে না। তাঁদের সকলকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে।
হাওড়ার শিল্পপতিরা আক্ষেপের সুরে মমতাকে জানান, ডোমজুড়ে বহু গয়না কারিগর রয়েছেন। তাঁদের অনেকে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। তা শুনে মমতা বলেন, হাতে কাজ করে যাঁরা উন্নত মানের গয়না গড়তে পারেন, সেই সমস্ত কারিগরকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লি, মুম্বইয়ে চলে যাওয়া কারিগরদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’’
শমীকের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এখান থেকে বিনিয়োগ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষ খাবার চান। তার জন্য ভিক্ষা নয়, কাজ চান। ঘোষণাসর্বস্ব সরকারের অপরিকল্পিত প্রতিশ্রুতির মুখাপেক্ষী হয়ে তাঁরা বসে থাকবেন কেন?”
বাংলায় হাতে তৈরি গয়নার চাহিদা বিশ্ব জুড়ে। তাই বিশ্ব-বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে ওই সমস্ত কারিগরকে সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান শিল্পপতিরা। মুখ্যমন্ত্রীও তাতে রাজি। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে কর্মতীর্থ তৈরি করে সেখানে গয়না শিল্পের জন্য জায়গা করে দেওয়া হবে। হাওড়ার জেলাশাসককে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন তিনি।