চলতি বছর অন্তর্বর্তী বাজেটে চার শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যে অন্তর্বর্তিকালীন বাজেট পেশ করেছিলেন, তাতে তিনি জানিয়েছিলেন ১ এপ্রিল থেকে চার শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) বাড়বে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। বেড়ে হবে ১৮ শতাংশ। এর মধ্যেই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার এক ঘণ্টা আগে আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ করেন বলেই দাবি সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির। কিন্তু এ বার বাজেটে ঘোষিত ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে এখনও কোনও উচ্চবাচ্য করছে না নবান্ন। তাতেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে সরকারি কর্মচারী মহলে।
সাধারণত, বাজেটে রাজ্য সরকার ডিএ সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা করলে শীঘ্রই সেই সংক্রান্ত বিষয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে অর্থ দফতর। ৫ ফেব্রুয়ারির বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণার পর প্রায় দুই মাস হতে চলল, এখনও সেই বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। কেন এখনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যায়নি তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি অর্থ দফতর। তাই স্বাভাবিক কারণেই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মনে। সিপিএম সমর্থিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ মেটাতে যে কৌশল রাজ্য সরকার অবলম্বন করেছে, তাতে আমাদের পাওনার তুলনায় কোথাও অর্ধেক কোথাও আবার অর্ধেকের থেকেও কম অর্থ দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন ঘোষিত ডিএ নিয়ে যে সরকার গড়িমসি করবে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। তাই সরকারের পদক্ষেপ দেখে আমরাও আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করব।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের রোপা অনুযায়ী, এ বছর বাজেটে চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। এই অর্থ পাওয়ার কথা মে মাসের বেতনের সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে নবান্নের একাংশের আধিকারিকদের কথায়, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে চলতি মার্চ মাস জুড়ে কাজ করতে হয়েছে, তাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে একটু সময় লাগছে। তা ছাড়া, বিধানসভা ভোটের কারণে আধিকারিকদের বহু রদবদল হয়েছে। তারও প্রভাব এ ক্ষেত্রে রয়েছে । আশা করা যাচ্ছে, এপ্রিল মাসেই এই সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে অর্থ দফতর।
তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে বকেয়া রাজ্য সরকার মিটিয়ে দিচ্ছে, তা কেবলমাত্র সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদান প্রাপ্ত সংস্থাগুলি ডিএ পাওয়ার অধিকারী হলেও এখনও বকেয়া ডিএ পাননি। এ প্রসঙ্গে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের ন্যায্য অধিকার আমাদের এখনও দেওয়া হয়নি। তার উপর নতুন করে ডিএ পাওয়ার আশা এই সরকারের কাছে করা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। আমরা সরকারের পদক্ষেপের উপর বিশেষ ভাবে নজর রাখছি।’’
তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘‘বিরোধী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করবে বলেই এই ধরনের কথা বলে যাচ্ছে। আজ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার সব ক’টি তিনি পালন করেছেন। এ ক্ষেত্রে বিরোধী সংগঠনগুলি যা করে এ বারও তা-ই করছে। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আবারও টাকাপয়সা তুলে আদালতে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে ওরা। আমরা বিশ্বাস রাখি সরকার যখন ডিএ ঘোষণা করেছে তা অবশ্যই কার্যকর হবে।।’’ সরকারি কোন ঘোষণা কার জোগাড় করতে গেলে বিজ্ঞপ্তি জারি বাধ্যতামূলক বিষয়। এ ক্ষেত্রে যতক্ষণ না বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে তা প্রকাশ করা হচ্ছে, তাতে সন্দেহ থেকে যাবে বলেই মনে করছে সরকারি কর্মচারীদের আরও একটি সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।