E-Paper

গুপ্তচর সন্দেহে মার, বাংলাদেশে উদ্ধার পথহারা ভারতীয় প্রৌঢ়

সম্প্রতি হ্যাম রেডিয়োর প্রচেষ্টায় ওই ব্যক্তির বাড়ির খোঁজ মিলেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির খারুন গ্রামে। পরিবারের সদস্যেরা জানান, তাঁর নাম জাইদুল মণ্ডল।

মিলন হালদার

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ঘুরে বেড়াতেন রাস্তায় রাস্তায়। পরনে পুরনো মলিন পোশাক। অযত্নে বেড়ে ওঠা চুল-দাড়ি। মানসিক ভারসাম্যহীন নাকি? মধ্যবয়সি ওই ব্যক্তির আচরণ বা কথাবার্তায় তেমন তো মনে হয়নি কারও। কাঁধে থাকত একটি ব্যাগ। তাতে কাউকে হাত দিতে দিতেন না তিনি। রাতে রাস্তার ধারে ঘুমোনোর সময়ে ব্যাগটি বালিশের মতো ব্যবহার করতেন। ব্যাগের হাতল জড়িয়ে রাখতেন হাতে। যাতে কেউ ব্যাগটি নিতে চাইলে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর।

কী আছে ব্যাগে? প্রশ্ন জেগেছিল বাংলাদেশের রংপুরের বাসিন্দাদের মনে। ওই ব্যক্তি এলেনই বা কোথা থেকে? শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে টালমাটাল বাংলাদেশে রংপুরের স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, ওই ব্যক্তি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর! সেই সন্দেহে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।

সম্প্রতি হ্যাম রেডিয়োর প্রচেষ্টায় ওই ব্যক্তির বাড়ির খোঁজ মিলেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির খারুন গ্রামে। পরিবারের সদস্যেরা জানান, তাঁর নাম জাইদুল মণ্ডল। মানসিক সমস্যা ছিল তাঁর। প্রায় ৩৫ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন জাইদুল।

হ্যাম রেডিয়ো সূত্রের খবর, বাংলাদেশের কয়েক জন ইউটিউবার জাইদুলকে নিয়ে ভিডিয়ো করে দাবি করেন, তিনি ভারতীয় গুপ্তচর। ছড়িয়ে পড়ে সেই সব ভিডিয়ো। জাইদুলের উপরে চড়াও হয় জনতা। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস বলেন, ‘‘এই সব বিপদ থেকে জাইদুলকে বাঁচাতে বাংলাদেশের হ্যাম রেডিয়োর এক অপারেটর তাঁকে উদ্ধার করে গোপন জায়গায় রেখেছেন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।’’

বাংলাদেশি ওই অপারেটরের কাছ থেকে জাইদুলের ছবি পেয়ে ভারতে হ্যাম রেডিয়োর সদস্যেরা খোঁজ শুরু করে জানতে পারেন, তাঁর বাড়ি হিলির খারুন গ্রামে। জাইদুলের মা লিলিফা মণ্ডলকে দিয়ে একটি ভিডিয়ো করায় হ্যাম রেডিয়ো। ভিডিয়োয় লিলিফা আবেদন করেছেন, তাঁর ছেলের মাথার ঠিক নেই। ছোটবেলায় সে হারিয়ে গিয়েছিল। জাইদুলকে মারধর না করে বাংলাদেশ থেকে তাঁর কাছে যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।এই ভিডিয়ো-বার্তা পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে।

বৃহস্পতিবার ফোনে জাইদুলের ভাইপো পারভেজ মণ্ডল বলেন, ‘‘কাকা আমার জন্মের আগে নিখোঁজ হয়ে যান। বাড়ির লোকেদের কাছে শুনেছি, তাঁর মানসিক সমস্যা ছিল। হঠাৎ করে রেগে যেতেন। পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে এক বার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। এত বছর পরে কাকার খোঁজ মিলল বাংলাদেশে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ham Radio

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy