রাজ্যে প্রসূতিদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পারা। রাস্তাতেই মারা যাওয়ার সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মালদহ। রাজ্যের প্রসূতি-মৃত্যু নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি, রাজ্যে নাবালিকা প্রসূতিদের মৃত্যুর হার কোন জেলায় বেশি এবং সেই মারা যাওয়ার নেপথ্যে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ একটি বড় কারণ বলেও বৈঠকে পরিসংখ্যান দিয়ে জানানো হয়েছে বলে খবর। রাজ্যের সমস্ত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও অন্যদের নিয়ে মঙ্গল এবং বুধবার শহরে একটি পর্যালোচনা ও মতামত আদানপ্রদান সংক্রান্ত বৈঠকের আয়োজন করেছিল স্বাস্থ্য দফতর।
সূত্রের খবর, সেখানেই জানানো হয়েছে, রাজ্যে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘ট্রানজ়িট ডেথ’, অর্থাৎ, বাড়ি বা এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে পথেই মারা যাওয়া প্রসূতির সংখ্যা ৩৪। আর সেই সংখ্যার ২৩ শতাংশ (সংখ্যায় আট) মৃত্যু ঘটেছে মালদহে। মুর্শিদাবাদে সেটি ১১ শতাংশ। বাকি অন্যান্য জেলায় ১০ শতাংশের নীচে। আবার, প্রসবযন্ত্রণা ওঠার পরে জ্বরে আক্রান্ত প্রসূতির বাড়ি থেকে এক ঘণ্টা হেঁটে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছনোর ঘটনাও স্বাস্থ্য দফতরের নজরে এসেছে বলে জানানো হয়।
মা ও শিশুদের জন্য সরকারের ‘১০২-অ্যাম্বুল্যান্স’ পরিষেবা রয়েছে। প্রশ্ন হল, তা হলে কি জেলার প্রান্তিক অঞ্চলে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা ঠিক মতো মিলছে না? স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রসবযন্ত্রণা শুরুর পরে ঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরিজনদের একাংশও অনেকটা বিলম্ব করেন। পাশাপাশি, সময় মতো অ্যাম্বুল্যান্স না পাওয়াও ‘ট্রানজ়িট ডেথ’-এর একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে জেলায় মা ও শিশুদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দেওয়া হয়। কিন্তু সর্বত্র পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স নেই। ফলে, ডাকা হলেও উপযুক্ত সময়ে যে গাড়ি পাওয়া যায় না, সেটা আবারও প্রমাণ হল।’’
যদিও স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, মালদহে ‘ট্রানজ়িট ডেথ’ হওয়া প্রসূতিদের বেশির ভাগকেই অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় অনেকটা দেরি করে স্থানীয় নার্সিংহোম থেকে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। অন্য দিকে, রাজ্যে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন জেলায় যত প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে, সেই অনুপাতে নাবালিকা প্রসূতি সব থেকে বেশি মারা গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলায়। যদিও ওই দুই জেলাতেই মোট প্রসূতির মধ্যে নাবালিকা প্রসূতির শতকরা হার খুব বেশি নয়। বরং সেই হার বেশির দিকে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, বিষ্ণুপুর-সহ আরও কয়েকটি জেলায়।
সূত্রের খবর, বিগত বেশ কয়েক মাসে রাজ্যে মোট ১০০ জন নাবালিকা প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। এবং সেই নাবালিকাদের ২৩ শতাংশের মৃত্যুর কারণ গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ। এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘নাবালক কোনও দম্পতি পাওয়া গেলে গর্ভধারণ সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করেন আশাকর্মীরা। কিন্তু নাবালিকা বিয়ে বন্ধ করা না গেলে সমস্যা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)