আরজি কর মামলায় পরিবারের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত করতে বলল হাই কোর্ট। সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে ওই দল কাজ করবে। আদালত আরও জানিয়েছে, সিবিআইকে পুনরায় ঘটনাস্থলে যেতে হবে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সব তথ্য এবং নথি খতিয়ে দেখতে হবে। কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছে, অপরাধের ধরন এবং সামাজিক পরিতৃপ্তির কথা মাথায় রেখে এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৪ জুন, বুধবার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট দেবে সিবিআই।
প্রসঙ্গত, আরজি কর হাসপাতালের পড়ুয়া-চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেস ডায়েরি, অডিয়ো-ভিডিয়ো তথ্য, ফোটোগ্রাফ-সহ যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রাথমিক ভাবে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে সব নথি হাজির করতে হবে সিবিআইকে। হাজির থাকতে হবে তদন্তকারী অফিসারকেও। ঘটনাস্থল নিয়ে মঙ্গলবার প্রশ্নের মুখে পড়ে সিবিআই। আদালত প্রশ্ন তোলে, তদন্ত শেষ না-হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কী ভাবে লোকজন ঢুকে পড়ছে? সেমিনার রুম-সহ আরজি করের যে যে জায়গা ‘সিল’ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতেও নির্দেশ দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, প্রায় দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন করা হয় এক মহিলা চিকিৎসককে। ওই ঘটনায় আসামি সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের তিনটি বেঞ্চ। গত ১২ মে ‘এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত শুনানি প্রয়োজন’ পর্যবেক্ষণ রেখে মামলা ছেড়ে দিয়েছিল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ গত শনিবার জানিয়েছিল, নির্যাতিতার পরিবারের আরজি কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন-সহ সমস্ত আবেদনের শুনানি হবে নতুন ডিভিশন বেঞ্চে। সেই মতো এখন মামলাটি রয়েছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে।