মোদীর কোন ৭টি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন মমতা, জানেন?
মোদী-মমতা দ্বৈরথে বারে বারেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতীয় রাজনীতি। কখনও ‘দিদি’র হুঙ্কারে ‘কোণঠাসা’ হয়েছেন মোদী। কখনও বা ‘মোদী-ম্যাজিকে’ ক্লিন বোল্ড হয়ে গিয়েছেন মমতা। চলুন দেখে নিই এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কোন কোন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নোটবন্দি: গত বছর ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নোট নাকচের সিদ্ধান্তের পর উত্তাল হয়ে উঠেছিল ভারতীয় রাজনীতি। পথে নেমে মোদী সরকারকে কার্যত তুলোধনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘স্বৈরাচারী’ থেকে ‘ফেসলেস মোদী’— প্রধানমন্ত্রীকে বিদ্ধ করেন নানা উপমায়। ‘ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতার করুন’—নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন মমতা।
জিএসটি: চলতি বছরের ৩০ জুন। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছুঁতেই রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে চালু হয়েছিল পণ্য পরিষেবা কর ওরফে জিএসটি। মোদী জমানায় ঐতিহাসিক এক দেশ, এক করের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক ছিলেন মমতা। ফেসবুকে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট মাঝরাতে ভারত স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। আর ৩০ জুন মধ্যরাতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র গভীর সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে। ফিরতে চলেছে ইন্সপেক্টর রাজ।’’
স্বাধীনতা দিবস নিয়ে মোদী-মমতা তরজা: মোদীর স্বাধীনতা সঙ্কল্প অনুষ্ঠানেও না ছিল রাজ্যের। স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কী ভাবে পালিত হবে তার একটা নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। প্রভাতফেরি থেকে ক্যুইজ প্রতিযোগিতা, অভিভাবক বৈঠক থেকে দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠানের কথা বলা ছিল তাতে। তাছাড়াও ছিল সব ছাত্রছাত্রীদের সঙ্কল্প বাক্য পাঠ করানোর নিদান। মোদী-মডেলের স্বাধীনতা পালনের নির্দেশিকাকে নাকচ করে দিয়েছিল মমতা সরকার।
দার্জিলিং বন্ধ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে চাপানউতোর: কিছু দিন ধরেই পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহার ইস্যু ঘিরে চরমে উঠেছে কেন্দ্র ও রাজ্য তরজা। পাহাড় থেকে ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে মমতা সরকার। পরে রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে সেনা প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে অন্তবর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। পিছু হটে কেন্দ্রও। ১০ কোম্পানি না হলেও ৭ কোম্পানি সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয় কেন্দ্রের তরফে। পরে সেই শীর্ষ আদালতও সেই একই নির্দেশ দেয়।
টোল প্লাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সরব মমতা: গত বছর ১ ডিসেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন টোল প্লাজাগুলিতে সেনা কর্মসূচির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন রাজ্যকে না জানিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি চালাল সেনা, প্রশ্ন তুলেছিলেন সেই নিয়েও। রাজ্যের বিভিন্ন টোল প্লাজা থেকে যত ক্ষণ না সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে তত ক্ষণ নবান্ন ছেড়ে যাবেন না বলে হুঙ্কারও দিয়েছিলেন ‘দিদি’।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ঘিরে তরজা: মোদী সরকারে বিরোধিতায় সুর সপ্তমে চড়াতে মমতা যে কোনও ইস্যুই হাতছাড়া করেন না তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ইউজিসির একটি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে বলা হয়েছিল, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার ১২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছাত্র ও শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে সেই ভাষণ। রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। ইউজিসি-র বিজ্ঞপ্তি নাকচের সিদ্ধান্ত নেয় মমতা সরকার।
আধার আইন নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত: আধার কার্ড নিয়েও সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে। আধার কার্ড বাধ্যতামূলক, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা সরকার। কোনও রাজ্য সরকার সংসদে পাশ হওয়া আধার আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না বলেই মত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।