রাজ্যে বলবৎ হয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। রাস্তায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আগের থেকে বেড়ে গিয়েছে পুলিশি টহলও। কিন্তু তা সত্ত্বেও হাওড়া শহর জুড়ে বেড়ে গিয়েছে অপরাধমূলক কার্যকলাপ। গত কয়েক দিনের মধ্যে হাওড়া স্টেশন থেকে এক নাবালিকাকে অপহরণের চেষ্টার পাশাপাশি শালিমার স্টেশন চত্বরে প্রকাশ্য রাস্তায় মোটরবাইক নিয়ে এসে এক মডেল-অভিনেত্রীর হাত থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিস ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে, ওই রাতেই হাওড়ায় গঙ্গাপাড়ের মল্লিকঘাট থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি তাজা বোমা। অভিযোগ, কোনও অপরাধমূলক কাজ করার জন্যই দুষ্কৃতীরা বোমাগুলি ওই জায়গায় রেখে দিয়েছিল। প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ তারিখ মালদহের মোতাবাড়ির বাসিন্দা, এক মহিলার নাবালিকা কন্যা যখন মালদহে যাওয়ার ট্রেন ধরতে হাওড়া স্টেশনের পুরনো কমপ্লেক্সে তার এক বন্ধুর সঙ্গে অপেক্ষা করছিল, তখন নিজেকে পুলিশ অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে সাবওয়ের দিকে নিয়ে যায়। মেয়েটি যেতে না চাইলে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে শাসানো হয়। রেল পুলিশ জানায়, ভুয়ো পুলিশ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসার পরে তার এক সঙ্গী ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে এগিয়ে এসে ওই কিশোরীকে ট্যাক্সিতে তোলার চেষ্টা করে। পুলিশ জানায়, তখনই ওই কিশোরী বুঝতে পারে যে, পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে অপহরণের চেষ্টা করছে ওই দুষ্কৃতীরা। তখন সে চিৎকার করতে শুরু করলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। দুষ্কৃতীরা তখন পালিয়ে যায়।
রেল পুলিশ ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে লিলুয়া হোমে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করে। রেল পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নুর আলম ও মিজারুল মণ্ডল নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। নুরের বাড়ি মুর্শিদাবাদের ডোমকলে এবং মিজারুলের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে।
অন্য দিকে, রবিবার ভোরে শালিমার স্টেশনের পার্কিং লটে ট্যাক্সির জন্য দাঁড়িয়ে থাকা দুই তরুণীর মধ্যে এক জনের একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় মোটরবাইকে করে আসা এক দুষ্কৃতী। মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা, স্বাগতা মুখোপাধ্যায় নামে ওই তরুণী পেশায় মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি জানান, ওই দিন ভোরে দুরন্ত এক্সপ্রেসে আসানসোল থেকে একটি শোয়ের কাজ করে শালিমার স্টেশনে নামার পর থেকেই এক দুষ্কৃতী তাঁদের অনুসরণ করছিল। এর পরে পার্কিং লটে তিনি ও তাঁর বন্ধু যখন দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন অন্য এক দুষ্কৃতী মোটরবাইক নিয়ে দূর থেকে নজর রাখছিল। তখনই আরও এক দুষ্কৃতী বাইকে চেপে এসে তাঁর ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার ওই তরুণী বলেন, ‘‘আমি ছিনতাইবাজকে ধরতে তাড়া করি। কিন্তু মোটরবাইক নিয়ে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমাকে আরপিএফের পক্ষ থেকে বটানিক্যাল গার্ডেন থানায় পাঠানো হয়। আমি সেখানে এফআইআর দায়ের করি।’’ এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে বালি থেকে একটি মোটরবাইক চুরি গিয়েছিল। অনুমান, সেই বাইকে চেপেই ছিনতাই করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। খুব শীঘ্রই অপরাধী ধরা পড়বে বলে পুলিশের আশা। অন্য দিকে, হাওড়া থানা এলাকার যে ঘাট থেকে তাজা বোমা পাওয়া গিয়েছে, সেখানে কে ওই বোমা রেখেছিল, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্ত করছে পুলিশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)