তাঁর সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারী কে, সেই প্রশ্ন ঘিরে জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হাওড়ার পুলিশ মর্গে পড়ে ছিল রাধারানি সাউ (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরে অবশেষে জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় বৃদ্ধার দেহের সৎকার করা হল শনিবার। জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়ার নির্দেশে বৃদ্ধার এক ভাইপোকে উত্তরাধিকারী বলে চিহ্নিত করে তাঁকে সৎকারের দায়িত্ব দিল গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। এ দিন দুপুরে দেহটি পুলিশ মর্গ থেকে শিবপুর শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহকাজ সারেন মৃতার ভাইপো দুলু সাউ।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে রুম হিটার জ্বালিয়ে তাপ পোহানোর সময়ে ওই হিটার থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে রাধারানির ঘরে আগুন লেগে যায়। সেই ঘটনায় ঘরের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় গোলাবাড়ি থানা এলাকার পিলখানার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার। এর পরেই তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়ে চার জন দাবিদার হাসপাতালে উপস্থিত হন। যার ফলে প্রকৃত উত্তরাধিকারী কে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, দাবিদারেরা নিজেদের উত্তরাধিকারী বলে দাবি করলেও কেউই সেই দাবির সপক্ষে কোনও নথি বা শংসাপত্র দেখাতে পারেননি। তাই দেহ দেওয়া যাবে না।
পুলিশ বৃদ্ধার দেহ দিতে অস্বীকার করায় বিপাকে পড়েন রাধারানির ভাইপো, পেশায় অটোচালক দুলু সাউ। রাধারানির স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দুলুই ওই বৃদ্ধার দেখাশোনা করতেন বলে এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে। পিসিমার দেহের সৎকারের অধিকার চেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন তিনি। সাহায্য চান শাসকদল তৃণমূলের উত্তর হাওড়ার নেতাদের কাছে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কেউই তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি।
এর পরে দুলু যোগাযোগ করেন আইনজীবী অনিন্দ্য রায়ের সঙ্গে। এ দিন ওই আইনজীবী বলেন, ‘‘আমার মক্কেল আদালতের নির্দেশে বৃদ্ধা রাধারানির সম্পত্তির একাংশের আগে থেকেই অংশীদার ছিলেন। পাশাপাশি, বৃদ্ধাকে দেখাশোনার দায়িত্বও নিয়েছিলেন। সেই সব তথ্য জেলাশাসককে জানিয়েছিলাম। এর পরেই প্রশাসন দুলু সাউকেই সৎকারের দায়িত্ব দেওয়ায় সমস্যা মিটে গিয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)