‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু হতেই পরিষেবা পেতে জেলায় জেলায় ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়েরা। কোথাও কোথাও আবার ভাতার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গন্ডগোলও হচ্ছে। সোমবার যুব সাথী ও ক্ষেতমজুরদের জন্য সরকারি ভাতার ফর্ম তোলা নিয়ে ব্যাপক হুড়োহুড়ি ও উত্তেজনা তৈরি হয় আরামবাগ বিডিও অফিস চত্বরে। অভিযোগ,হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তি,এমনকি ফর্ম কাড়াকাড়িও শুরু হয়ে যায়। সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে পুলিশ এসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। পরে আরামবাগ থানার আইসি রাকেশ সিংহ বিশাল পুলিশ ও র্যাফ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
জানা গিয়েছে, সোমবার আরামবাগ বিডিওঅফিসে সরকারি ভাতার ফর্ম নিতে উপচে পড়া মানুষের ভিড় দেখা যায়। ফর্ম নিয়ে এতটাই হুড়োহুড়ি লেগে যায় যে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। অভিযোগ, ফর্ম নিয়ে কাড়াকাড়ি, ধস্তাধস্তিতে অনেকেই অসুস্থ বোধ করেন। সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে পুলিশ এসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। পরে আরামবাগ থানার আইসি রাকেশ সিংহ বিশাল পুলিশ ও র্যাফ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার পরেও গন্ডগোল, হুড়োহুড়ি, কাড়াকাড়ি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তি চলতেই থাকে।
আরও পড়ুন:
দূর দূরান্তের গ্রাম থেকে বিডিও অফিসে আসেন উপভোক্তারা। মহিলা থেকে বৃদ্ধ সবাই দাঁড়ান লাইনে। গ্রামবাসীরা জানান, একটি কাউন্টার থেকে ফর্ম দেওয়া হচ্ছিল। প্রচুর মানুষ এসে যাওয়ায় সেখানে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দেখা যায়, ফর্ম হাতে হাতে বিলি করা হচ্ছে। কিন্তু যে পরিমান মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁদের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। সোমবার এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে অনেকে ফর্ম না নিয়েই ফিরে যান। কোনও নিয়ম মেনে ফর্ম বন্টন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামো অভাব রয়েছে বলেও জানান তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু করেছে তৃণমূল সরকার। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মহীনদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগামী ১ এপ্রিল থেকে মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক শিবির শুরু হয় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে।