E-Paper

রেলের উচ্ছেদঅভিযান চলল কাঁঠালবাগানে

গত কয়েক মাস ধরেই রেলের জমি খালি করার জন্য হুগলির বিভিন্ন জায়গায় লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে রেল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৭
উচ্ছেদের পরে।

উচ্ছেদের পরে। নিজস্ব চিত্র ।

বিভিন্ন জায়গায় রেলের জমি থেকে দখলদার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত। শনিবার মধ্যরাতে উত্তরপাড়ার কাঁঠালবাগানে মাছ বাজার এবং লাগোয়া এলাকার বেশ কিছু অস্থায়ী কাঠামো-সমেত প্রায় দেড়শো দোকান গুঁড়িয়ে দিল রেলের পে-লোডার। তবে, মাখলা এবং উত্তরপাড়া স্টেশন লাগোয়া দু’টি বস্তি সাধারণ মানুষের সমবেত প্রতিরোধের মুখে ভাঙতে পারেনি রেল সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) জওয়ানেরা।

গত কয়েক মাস ধরেই রেলের জমি খালি করার জন্য হুগলির বিভিন্ন জায়গায় লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে রেল। কাঁঠালবাগান বাজারেও রেলের তরফে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ক্ষোভ, রেলের জমিতে একের পর এক গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন নির্মাণের পিছনে অনৈতিক নানা ব্যবসা চলছে। সে দিকে রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি নেই। তাঁরা উঠেপড়ে লেগেছেন গরিব ব্যবসায়ীদের তুলে দেওয়ার জন্য।

কাঁঠালবাগান বাজারে চার দশক ধরে মাছ বিক্রি করছেন সুনীল মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘ছেলে, বৌমা, নাতিদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াব? রেলের কর্তারা একটু ভাবলেন না? আর্থিক সঙ্গতি নেই বলেই পেট চালানোর জন্য রোদ-জল মাথায় নিয়ে এই ব্যবসা করি।’’ কৃষ্ণা ভৌমিকও এই বাজারের দীর্ঘদিনের মাছ বিক্রেতা। তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বামী নেই। বাচ্চা নিয়ে কোথায় দাঁড়াব? এই ব্যবসার উপরেই আমার সংসার নির্ভরশীল। রেলের থেকে একটু সময় চাইলাম কিছু দিন। কোনও কথা শুনল না।’’ সিপিআই (এমএল) লিবারেশন, সিআইটিইউ-র মতো বামপন্থী নানা সংগঠনও উচ্ছেদের প্রতিবাদ করে।

পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়, রেলের জমি ফাঁকা করার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতিটি স্টেশনে রেলের জমি উদ্ধারের অভিযান চলছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Uttarpara Indian Railways

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy