রাতের অন্ধকারে বালি বোঝাই ডাম্পার চলাচলের জেরে আরামবাগের হরিণখোলা ১ পঞ্চায়েতের পূর্ব কৃষ্ণপুরের কিছু বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরছে এবং গ্রামীণ রাস্তা ভাঙছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার বাঁকের মুখে যে সব বাড়ি রয়েছে, সেগুলিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে ঠিকাদার এবং ডাম্পার-চালকদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের অশান্তিও হচ্ছে। সম্প্রতি পঞ্চায়েত, ব্লক এবং জেলা প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগপত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন হরিণখোলা ১ পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থ হাজারি। তিনি বলেন, “সরকারি ছাড়পত্র থাকায় নদী থেকে বালি তোলার কাজে বাধা দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েতের তরফে আমরা দু’চার দিনের মধ্যেই রাস্তার বাঁকগুলিতে লোহার গার্ডওয়াল দিয়ে দেব।” বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনে ঠিকাদারের সঙ্গেও আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, “অভিযোগ হাতে পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা প্রকল্পে তৈরি গ্রামীণ রাস্তায় যথেচ্ছ ভারবহন নিয়ে জেলা পরিষদের এক বাস্তুকার বলেন, ‘‘এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসেনি। সে রকম হয়ে থাকলে সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগীদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র ঘোষ, চন্দ্রশেখর ঘোষ, রাজকুমার ঘোষদের অভিযোগ, অতীতে বালিখাদগুলি থেকে লরি বা ট্রাক্টরে বালি তোলা হত। এখন বালিখাদ বন্ধ। তবে, সরকারি ‘নো কস্ট টু গর্ভনমেন্ট’ প্রকল্পে নদীর চর সংস্কারে ১৬-১৮ চাকার ডাম্পারে বালি বওয়া হচ্ছে। রাস্তার বাঁকগুলিতে থাকা বাড়ির দেওয়ালে সেই ডাম্পারের ধাক্কা লাগলে ফেটে যাচ্ছে। তা ছাড়া, রাস্তায় ১০ টন পর্যন্ত মাল বহনের ফলক থাকলেও ডাম্পারপিছু ৭০-৮০ টন বালি তোলা হচ্ছে। অবিলম্বে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসী।
সুভাষচন্দ্রের অভিযোগ, “ডাম্পারের ধাক্কায় রাস্তার বাঁকে আমার বসতবাড়ির দেওয়াল ফেটেছে। সেই ছবি পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি। রাস্তা ছেড়ে বাড়ি করার পরেও এর ক্ষতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)