ক্যালেন্ডারে মাঘ। অথচ, আনাজের দামে জ্যৈষ্ঠের ছেঁকা!
চুঁচুড়ার খড়ুয়াবাজার থেকে বেরিয়ে একরাশ বিরক্তিতে এই কথাই ছুড়ে দিলেন ফুলপুকুরের প্রৌঢ় বরুণ দাস। বললেন, ‘‘বাপ রে বাপ! এটা শীতের বাজার! ৩০০ টাকায় ছোট ব্যাগটা পর্যন্ত ভরল না! এ তো গরমের বাজারকেও হার মানাচ্ছে!’’
হুগলি জেলার নানা প্রান্তে বাজারে বাজারে বরুণের কথারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সকলেরই আক্ষেপ, ঠান্ডার মরসুমেও ভয় ধরাচ্ছে আনাজের দাম।
প্রায় দু’দশক ধরে আনাজ বেচেন চুঁচুড়ার কাপাসডাঙার কমলেশ বিশ্বাস। তিনি জানাচ্ছেন, শীতে আনাজের দাম কখনও এত বাড়েনি। শেওড়াফুলির এক আনাজ বিক্রেতার কথায়, ‘‘চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। সামান্য লাভরেখে বেচছি।’’ তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আনাজের উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি থাকায় জোগানও কম। তাই এই পরিস্থিতি।
জিরাটের চাষি হরেরাম সিংহ জানাচ্ছেন, এ বার লঙ্কার ফলন কম। পাইকারি বাজারে তা বিকোচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। খুচরো বাজারে গিয়ে সেই দামই দ্বিগুণ। এ ব্যাপারে সরকারি নজরদারির দাবি জানান তিনি। যদিও রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘‘গত বছর অতিবৃষ্টিতে ফলন কমেছিল। সেটাও দামবৃদ্ধির কারণ হতে পারে। সরকার লক্ষ্য রাখছে।’’ জেলা উদ্যানপালন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘হুগলিতে সাধারণত অক্টোবর মাস থেকে শীতের ফসল ওঠে। অতিবৃষ্টিতে আরামবাগ মহকুমার ফসলে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’’
এই দামবৃদ্ধির জন্য প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করছেন চাষি এবং আনাজ বিক্রেতাদের অনেকে। আরামবাগের পুরনো বাজারের আনাজ বিক্রেতা ঝন্টু ধাড়া বলেন, ‘‘কয়েক মাস আগে অতিবৃষ্টিতে ফলন নষ্ট হয়েছে। অনেক চাষিরই লোকসান হয়েছে। তাই শীতেও তাঁরা সে ভাবে চাষ করতে পারেননি।’’ আরামবাগের বড় ডোঙ্গলের চাষি দেবাশিস পাঁজা বলেন, ‘‘অতিবৃষ্টিতে এক মাত্র উঁচু জমির কপি বাঁচানো গিয়েছে। নিচু জমির কপি মার খেয়েছে। তাই দাম বেড়েছে।’’ তবে চাষিরা যে দামে আনাজ বেচছেন এবং ক্রেতার হাতে তা যে দামে পৌঁছচ্ছে— তার মধ্যে ফারাক অনেকটাই। এই ফারাকের পিছনে ফড়ে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ‘হাতযশ’ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নানা মহলের অভিমত। তাই পকেট খসিয়েও আনাজের ব্যাগ ভরছে না।
ভরা জানুয়ারিতেও জমিয়ে বেগুনপোড়া খেতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। বেগুন কিনতেও হাত পুড়ছে!
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)