E-Paper

ভোট-চর্চায় ফিরছে দুই দলের কোন্দল

গেরুয়া শিবিরের পক্ষে রয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার পরিসংখ্যান।

সুদীপ দাস

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অপ্রাপ্তির তালিকা কম নয়। কিন্তু ভোটমুখী চুঁচুড়ায় তা নিয়ে আলোচনা কম। মানুষের মুখে ফিরছে প্রধান দু’দলের গোষ্ঠীকোন্দল। ভোটের দিন এগিয়ে এলেও যা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে, দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়ছে।

অসুস্থ হয়ে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার দু’দিন নার্সিংহোমে ভর্তি থাকার পরে ছুটি পেয়েছেন রবিবার। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত দু’-এক দিন বাদে দলীয় প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সমর্থনে তাঁকে প্রচারে দেখা গেল কই? তিন বারের বিধায়ক টিকিট না-পাওয়ায় প্রথমে ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে বরফ গলার ইঙ্গিত মিললেও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব ফের প্রকট হয়। দলের এই অবস্থায় দেবাংশুর ‘নতুন চুঁচুড়া’ গড়ার ডাকে কতটা সাড়া মিলবে তা নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশ সন্দিহান।

দেবাংশু অবশ্য বলেন, ‘‘প্রচারে ভাল সাড়া পাচ্ছি। নতুন চুঁচুড়া বলতে পুরনো উন্নয়নকে অব্যাহত রাখা। অসিতদা অনেক কাজই করেছেন। চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই সে সব কাজের দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। তা আমাকেই করতে হবে।’’

বিজেপির দাবি, জিতলে তবে তো উন্নয়ন করবেন দেবাংশু। গেরুয়া শিবিরের পক্ষে রয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার পরিসংখ্যান। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশের দাবি, এসআইআর-হয়রানি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ কমেনি। বহু নাম বাদ গিয়েছে। ফলে, বিজেপির লড়াই সহজ নয়।

লড়াই যে সহজ নয়, তা মানছেন গেরুয়া শিবিরের বড় অংশ। সুবীর নাগকে এই কেন্দ্রে দল প্রার্থী করায় গোষ্ঠীকোন্দল চরমে উঠেছে। সুরেশ সাউ বেশ কয়েক জন বিজেপি নেতা সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দেন। সুবীর অবশ্য দাবি করছেন, ‘‘কোনও কিছুই প্রভাব ফেলবে না। মানুষ এ বার পদ্ম ছাড়া অন্য কোথাও ভোট দেবেন না।’’

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে এ তল্লাটে রাস্তার উন্নতি হয়েছে। দিল্লি রোডের ধারে কারখানা হয়েছে। শহরে অপরাধীদের দাপট কমেছে। চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। তবে, এখানে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ কমেনি। গঙ্গাপাড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন হওয়ার চার বছর পরেও খেলাই শুরু হয়নি চুঁচুড়া ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। ব্যান্ডেল ও চুঁচুড়া স্টেশনের নীচে বর্ষায় জল জমার সমস্যা বাম আমলের মতোই রয়ে গিয়েছে। কোদালিয়া ১ ও ২ পঞ্চায়েতের একটি বড় অংশ বর্ষায় জলের তলায় থাকে। বন্ধ হয়েছে একাধিক স্কুল। একইসঙ্গে দেদার পুকুর ভরাট, গাছপালা ধ্বংস করে ঘরবাড়ি তৈরির অভিযোগও কম নেই। রাজহাটকে ঘিরে ময়ূর সংরক্ষণ অঞ্চলও গড়ে ওঠেনি।

সমস্যা আছে, মানছেন দেবাংশুও। আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘‘জিতলে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিয়ে ভাবব।’’ কিন্তু মানুষের দাবি, দুই প্রধান দলই সার্বিক প্রকল্প, ইস্তাহার নিয়েই বেশি প্রচার চালাচ্ছেন। বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ততটা নন।

লড়াইয়ে আছে ফরওয়ার্ড ব্লক এবং কংগ্রেসও। এক সময়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল চুঁচুড়া। এখানে বছর সত্তরের সুনীল সাহাকে প্রার্থী করেছে দল। সুনীল বলছেন, ‘‘তৃণমূল-বিজেপির প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। ততাই এ বার অন্য ছবি দেখা যাবে।’’ কংগ্রেস প্রার্থী বর্ষীয়ান মইনুল হক দাবি করছেন, ‘‘বামেদের সঙ্গে জোট না হওয়ায় এ বার কংগ্রেসের ঝুলিতে ভোট বাড়বেই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Chinsurah TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy