আগামী রবিবার তাঁর বিয়ে। সে জন্য বাড়ি ফিরতে পয়লা মার্চ প্লেনের টিকিট কাটা হয়েছিল। কিন্তু বোমারু বিমানের দখল নেওয়া আকাশে যাত্রিবাহী সেই বিমান ওড়েনি। ফলে, কর্মস্থল শারজাতেই আটকে রয়েছেন হাওড়ার ডোমজুড়ের তেত্রিশ বছরের যুবক সারথি মুখোপাধ্যায়। তাঁর অপেক্ষায় উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন গুনছে পরিবার। একই উদ্বেগ হবু শ্বশুরবাড়িতেও।
সারথিদের বাড়ি ডোমজুড়ের দক্ষিণ ঝাঁপড়দহে। বাড়ির লোকেরা জানান, কোভিডের পরে শারজায় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার কাজে যান সারথি। ২০২৩ সালে কিছু দিনের জন্য ফিরেছিলেন। তিন বছর পরে বিয়ে উপলক্ষে আবার ফেরার কথা। বাড়িতে রয়েছেন বাবা রাজেন্দ্রপ্রসাদ, মা তনুশ্রী এবং ভাই বিশ্বপতি মুখোপাধ্যায়। ডোমজুড়ের নিবড়া ট্র্যাফিক গার্ডের হোমগার্ড বিশ্বপতি বলেন, ‘‘দাদা যেখানে থাকে, সেখানে সারাক্ষণ বোমা পড়ছে। একের পর এক বিমান বাতিল হয়েছে। ফলে, দাদা কবে ফিরতে পারবে, বুঝতে পারছি না। হয়তো বিয়ে পিছিয়ে দিতে হবে!’’
বিশ্বপতি জানান, বাড়ির লোকজনের সঙ্গে প্রতিদিন কথা হচ্ছে সারথির। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জানান, ওই সন্ধ্যা থেকেই সেখানে যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ে। কবে ফিরতে পারবেন, ঠিক নেই। ইরান বা ইজ়রায়েল থেকে বহু ভারতীয় ফিরলেও দুবাই থেকে সে ভাবে কাউকে ফেরানো হচ্ছে না বলে বক্তব্য মুখোপাধ্যায় পরিবারের।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন ডোমজুড়ের বাসিন্দা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ মিদ্দে ও তাঁর স্ত্রী চাঁদসুলতানা মিদ্দেও ডোমজুড়ে চরম উৎকণ্ঠায় তাঁর পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর বাষট্টির ইউসুফ ২০০৩ সাল থেকে সৌদি আরবের দামাম শহরে একটি তেল উৎপাদক সংস্থায় কাজ করেন। বর্তমানে এগ্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত।
ভাই দাউদ মিদ্দে বলেন, ‘‘প্রতিদিনই ফোনে কথা হচ্ছে দাদা-বৌদির সঙ্গে। ওরা যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছে। যে ভাবে একের পর এক মিসাইল হামলার খবর আসছে, উদ্বেগ আরও বেড়েছে।’’ আত্মীয়েরা জানান, প্রতি বছর অন্তত একবার সস্ত্রীক বাড়িতে আসেন ইউসুফ। পারিবারিক উৎসব-অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভোলেন না। তাঁদের নিয়ে মেতে ওঠেন বাড়ির লোক। সেই বাড়িতে এখন তাঁদের নিয়ে উৎকণ্ঠা। দাউদ বলেন, ‘‘সকলেরই প্রার্থনা, ওরা নির্বিঘ্নে থাকুক। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)