E-Paper

ত্রিবেণীর কুম্ভে এ বার পাশে রাজ্য সরকার

মহকুমাশাসক (সদর) স্মিতা সান্যাল শুক্ল জানান, বুধবার মেলা পরিচালনা সমিতি, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হয়েছে।

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:০০
ত্রিবেণী স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে কুম্ভমেলার প্রস্তুতি হিসাবে ভূমিপুজো চলছে।

ত্রিবেণী স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে কুম্ভমেলার প্রস্তুতি হিসাবে ভূমিপুজো চলছে। ছবি: তাপস ঘোষ

পর পর চার বছর ধরে হুগলির ত্রিবেণীতে কুম্ভমেলার আয়োজন হচ্ছে। এ বারই প্রথম এই মেলায় রাজ্য সরকারের তরফে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিল জেলা প্রশাসন।

ত্রিবেণীতে গঙ্গার পারে ওই মেলা চলবে ১১-১৩ ফেব্রুয়ারি। বুধবার এখানকার সপ্তর্ষি ঘাট সংলগ্ন মাঠে ভূমিপুজোর মধ্যে দিয়ে ‘বঙ্গীয় কুম্ভ মহোৎসবে’র সূচনা হয়। তার ব্যানারে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি। তাঁকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, তাদের পক্ষ থেকে সেখানে ১০টি জৈব শৌচালয়ের ব্যবস্থা-সহ পরিষেবা সংক্রান্ত সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিড় সামলাতে থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।

মহকুমাশাসক (সদর) স্মিতা সান্যাল শুক্ল জানান, বুধবার মেলা পরিচালনা সমিতি, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘গঙ্গাসাগর মেলায় যেমন প্রশাসন পরিষেবা সংক্রান্ত সব রকম ব্যবস্থা নেয়, ত্রিবেণীর কুম্ভেও আমরা নেব।’’ আয়োজকদের পক্ষে কাঞ্চন বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কয়েকশো সাধু ত্রিবেণীতে আসবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টায় হবে শাহি স্নান। প্রশাসনের কাছ থেকে সব রকম সহযোগিতা পাচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আমাদের আবেদন মেনে আশপাশের স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা রাখেনি। আগামী ৫ বছর এই সময়ে যাতে পরীক্ষা না হয়, অনুরোধ জানিয়েছি।’’ পরীক্ষাকেন্দ্র সরানো নিয়ে কাঞ্চনের দাবি মানেনি পর্যদ।

২০২২ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত এই কুম্ভমেলায় স্থানীয় বাঁশবেড়িয়া পুরসভা শুধু মেলা প্রাঙ্গণ সাফাইয়ে সহযোগিতা করেছে এবং তাদের স্থানীয় শৌচাগারগুলি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এ বার সরাসরি রাজ্য সরকার সহযোগিতার হাত বাড়াল কেন?

প্রশাসনের তরফে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে বিঁধেছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষের কটাক্ষ, ‘‘কাজ
নেই, শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য নেই। মানুষের নজর ঘোরাতে দিদি-মোদী হাত ধরাধরি করে চলছেন। এর বেশি আর কী বলব!’’

এ কথা মানেনি তৃণমূল। সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘ত্রিবেণীতে কুম্ভ আমাদের ব্যবস্থাপনাতেই শুরু হয়েছিল। এ বার মহাকুম্ভের যোগ। সব জায়গায় বড় করে উৎসব হচ্ছে। এখানেও হবে। প্রয়াগরাজের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।" বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘সকলের এগিয়ে আসা উচিত। অনেক নেতাই রাতের অন্ধকারে গঙ্গাস্নান করেন। অথচ, সকালে ধর্মনিরপেক্ষতা দেখান।’’

দু’বছর আগে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ত্রিবেণীর কুম্ভমেলার প্রাসঙ্গিকতা বর্ণনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গত বছর সেই মেলার আয়োজন নিয়ে আয়োজক সংস্থা ‘ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালনা সমিতি’র সঙ্গে জেলা প্রশাসনের টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রশাসন প্রথমে অনুমতি না দিলেও পরে শর্ত সাপেক্ষে মেলা হয়।

প্রতি বছর মেলা চত্বরে থাকা বাঁশবেড়িয়া মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলে মাধ্যমিকের সিট পড়ে। এ বার সেখানে পরীক্ষা হবে না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমীর দাস বলেন, ‘‘প্রায় ৪৫ বছর ধরে মাধ্যমিকের সিট পড়ে। এ বার পর্ষদের কাছ থেকে কোনও নির্দেশিকা পাইনি।’’ তবে, কুম্ভের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র সরানো হয়েছে,
এ কথা মানেননি পর্ষদের এক কর্তা। তাঁর দাবি, ‘‘ওই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের আসন সংক্রান্ত সমস্যার জন্যই পরীক্ষাকেন্দ্র সরানো হয়েছে। এর সঙ্গে কুম্ভের কোনও যোগ নেই।"

বুধবারের ‘ভূমিপুজো’য় হাজির রামকৃষ্ণ মিশনের আলমবাজার মঠের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, ‘‘৭০০ বছর আগে মাঘ সংক্রান্তিতে এই ত্রিবেণী সঙ্গমে কুম্ভস্নান হত। বসত মেলা। গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার পথে সাধুরা এই স্নানে যোগ দিতেন। পরে তা বন্ধ হলেও ফের শুরু করা হয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kumbh Mela Tribeni

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy