এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলির চুঁচুড়ার কাপাসডাঙায়। মৃতার বাপের বাড়ির পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁদের মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছেন! খবর প্রকাশ্যে আসার পরই মৃতার শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন বাপের বাড়ির সদস্যেরা। চালানো হয় ভাঙচুরও।
জানা গিয়েছে, কাপাসডাঙার বাসিন্দা দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বছর তিনেক আগে বিয়ে হয়েছিল হাওড়ার সাঁকরাইলের মৌমিতা চক্রবর্তীর। তাঁর বাপের বাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মৌমিতার উপর নানা ভাবে অত্যাচার করতেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক অত্যাচার চলত।
এক এক সময়ে অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেড়ে যেত যে, মৌমিতা সংসার ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে আসতেন। তবে পরে দীপঙ্কর এসে বুঝিয়ে তাঁকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যেতেন। অভিযোগ, তার পরেও অত্যাচার কমেনি। শুক্রবার রাতে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল মৌমিতার। তবে সকাল ৬টা নাগাদ সাঁকরাইলের বাড়িতে মৌমিতার ‘আত্মহত্যার’ খবর পৌঁছোয়।
যদিও মৌমিতা আত্মহত্যা করেছেন, তা মানতে নারাজ তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা। তাঁদের দাবি, মৌমিতাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সাতসকালেই কাপাসডাঙায় চলে আসেন তাঁরা। ভাঙচুর করা হয় দীপঙ্করদের বাড়ি। মৃতার কাকিমার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মৌমিতার উপর অত্যাচার চলত। কয়েক বার মেটানোর চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। পরিবারের আরও দাবি, দীপঙ্কর আগে আরও তিনটে বিয়ে করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
অত্যাচারের বিষয়ে সায় দিয়েছেন প্রতিবেশীরাও। শনিবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। খবর পেয়ে এলাকায় যান যান চুঁচুড়া পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্মল চক্রবর্তী। তিনিও জানান, দীপঙ্করদের পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও গন্ডগোল ছিল তাদের। আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। দীপঙ্কর-সহ পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।