Advertisement
E-Paper

খুন, তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসা, হুগলিতে তিন মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা থেকে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ এবং কর্মী!

তৃণমূল সরকারের আমলে খুন, তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে জমি দখলের মতো অভিযোগ ছিল। হুগলির মগরার বাসিন্দা তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ সেই বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে বৈদ্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ১৮:২৩
Hooghly TMC Leaders Arrest

বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার তৃণমূলের নেতা এবং তৃণমূল-ঘনিষ্ঠরা। —নিজস্ব চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, গত ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলার ফাইল খুলবেন। তা ছা়ড়া শনিবারই তিনি ঘোষণা করেছেন, তোলাবাজি করা, কাটমানি নেওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে পুলিশ। তার পর দু’দিন ধরে জেলায় জেলায় ‘গ্রেফতারি অভিযান’ চলছে। সোমবার শুধু হুগলিতেই গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা থেকে দলীয় কর্মী এবং দলের-ঘনিষ্ঠেরা। কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কেউ আবার অভিযুক্ত খুনের মামলাতেও।

তৃণমূল সরকারের আমলে খুন, তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে জমি দখলের মতো অভিযোগ ছিল। হুগলির মগরার বাসিন্দা তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ সেই বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে বৈদ্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গত বছর ২১ মে বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দা লক্ষ্মণ চৌধুরী নিখোঁজ হয়ে যান। স্থানীয়েরা দাবি করেন, বৈদ্যনাথের কাছেই তিনি ‘কাজ’ করতেন। স্থানীয় একটি ক্লাবে লক্ষ্মণকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তার পর দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় গঙ্গায়। কিন্তু দেহ উদ্ধার হয়নি। ওই ঘটনাতেও বৈদ্যনাথের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিল মৃতের পরিবার।

লক্ষ্মণের পরিবার জানিয়েছে, খুনের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু শাসক-ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বৈদ্যনাথের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সোমবার মগরা থানার পুলিশ বৈদ্যনাথকে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু থেকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার হুগলিতেই তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আইএনটিটিউসি সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল, প্রাক্তন সম্পাদক শেখ রবিয়াল এবং একটি মিলের এক কর্মচারী। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ তাঁদের পাকড়াও করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি মামলা ২০২৪ সালের। শ্রীরামপুর রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আকাশ মণ্ডলের বাবা গোবিন্দ মণ্ডল কর্মরত অবস্থায় মারা যান। তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল কো-অপারেটিভ স্পিনিং মিলে কর্মরত ছিলেন। কর্মীর মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। অভিযোগ, সেই টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মিলেরই কিছু কর্মচারী এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কয়েক জন নেতা ধাপে ধাপে মৃত গোবিন্দের পুত্র আকাশের কাছ থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আদায় করেন। কিন্তু এত টাকা নেওয়ার পরেও এ পর্যন্ত আকাশ ১৮ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ।

যুবকের দাবি, বার বার পুলিশের কাছে গিয়েও সুরাহা হয়নি। রাজ্যে সরকার বদলের পর তিনি আবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যধরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আইএনটিটিইউসি-র সম্পাদক প্রবীর, প্রাক্তন সম্পাদক শেখ রবিয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (শ্রীরামপুর) অর্ণব বিশ্বাস বলেন, ‘‘ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হয়।’’

২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের নামে। ২০২৬ সালে এসে গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত তিন তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ, এই বিধানসভা ভোটের আগেও বিরোধীদের হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম দেবাশিস ঘোষ ওরফে দেবেশ, শুকদেব মাহাতো ওরফে ডাকু এবং টুটুল দাস ওরফে টুটুন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি (ডিএনটি) প্রিয়ব্রত বক্সী জানান, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তে নেমে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই তিন জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৯ (৪), ১১৫ (২), ৭৪, ৩৫১ (৩), ৩৫২ এবং ৩ (৫) ধারায় মামলা রুজু করে চুঁচুড়া আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

Post Poll Violence Cut Money Hooghly
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy