তৃণমূলের যুবনেত্রী তথা পুরসভার কর্মীর গ্রেফতারির পর দিনহাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানকেও গ্রেফতার করল পুলিশ। মৌমিতা ভট্টাচার্যকে পাকড়াও করার পর থেকেই গৌরীশঙ্কর মহেশ্বরীকে খুঁজছিল পুলিশ। রবিবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সোমবার আদালতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ-ঘনিষ্ঠ গৌরীশঙ্করের দাবি, তিনি নির্দোষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
যে অভিযোগে তৃণমূলের যুবনেত্রী এবং প্রাক্তন পুরপিতার গ্রেফতারি, সেই মামলাটি বছর দুয়েক আগের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কোচবিহারের দিনহাটা পুরসভা এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, পুরসভা থেকে নির্মাণের অনুমোদনের যে কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে, সেগুলি নকল। শোরগোল পড়ে যায় গোটা পুরসভায়। দিনহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। শেষমেশ হস্তক্ষেপ করেন তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন। ইস্তফা দেন গৌরীশঙ্কর। পুরসভার চেয়ারম্যান করা হয় অপর্ণা নন্দীকে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ওই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে আবার। তার অংশ হিসাবে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল যুবনেত্রী তথা সংশ্লিষ্ট পুরসভার গ্রুপ-সি কর্মী মৌমিতাকে। দিনহাটা মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় বর্মণ জানান, নাগরিকদের বাড়ির ‘প্ল্যান পাশ’ করিয়ে দেওয়ার জন্য মৌমিতা ভট্টাচার্য, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং কয়েক জন পুরকর্মী যোগসাজশ করে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁরা অবৈধ ভাবে নির্মাণকাজের অনুমোদন দিয়েছিলেন। ওই অভিযোগে উত্তম চক্রবর্তী, প্রদ্যুৎ সাহা-সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে।
রবিবার মৌমিতাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ২০ মে তাঁকে আবার আদালতে হাজির করাতে হবে। সোমবার ধৃত দিনহাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। আদালতে যাওয়ার সময় তৃণমূল নেতার অভিযোগ, ‘‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সময়মতো সব কিছু বলব।’’
আরও পড়ুন:
দিনহাটা সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত দেবনাথ জানিয়েছেন, পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন পৌরপিতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্য দিকে, কোচবিহারে তৃণমূল-২ ব্লক সভাপতির গ্রেফতারির পর লুটপাট এবং ভাঙচুরের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে কোচবিহার-১ ব্লকের সভাপতিকে। গত বছর শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন কোচবিহার-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শুভঙ্কর দে। এ বার গ্রেফতার হলেন এক ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের হক।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিধানসভা ভোটের কয়েক দিন আগে স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার তাঁকেও কোচবিহার আদালতে হাজির করানো হয়।