দুর্নীতির নালিশ, পঞ্চায়েতে ঘেরাও
নিজস্ব সংবাদদাতা • পাণ্ডুয়া
১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে হুগলির পাণ্ডুয়া ব্লকের সিপিএম পরিচালিত বেলুন-ধামাসিন পঞ্চায়েত ঘেরাও করল তৃণমূল। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে বিডিও ঘটনাস্থলে যান। পরে প্রধান নবনীতা বাউল দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে চাননি। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পুকুর কাটার নামে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে সিপিএম। কেবলমাত্র পাড় কেটে পুকুর কাটার হিসেব দাখিল করা হয়েছে। এই ভাবে সিপিএমের প্রাক্তন এক সদস্য প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজ করিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা নয়ছয় করিয়েছেন। ওই অভিযোগকে সামনে রেখেই এ দিন দুপুরে কয়েকশো গ্রামবাসী এবং তৃণমূল সমর্থক পঞ্চায়েত ভবনের সামনে জড়ো হন। শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবিও ওঠে। বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিডিও প্রতিনিধি পাঠান। তবে, তাঁদের অনুরোধে বিক্ষোভকারীরা ক্ষান্ত হননি। শেষ পর্যন্ত বিডিও নবনীপা সেনগুপ্ত নিজে ঘটনাস্থলে যান। বিডিও বলেন, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ব্লক তৃণমূল সভাপতি আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘‘মানুষ এবং প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে সিপিএমের লোকেরা। সেই কারণেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছি আমরা। দোষীদের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়।”
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুরু হল তদন্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা • গোঘাট
স্কুল তহবিলের টাকা নিয়ে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত গোঘাটের হাজিপুর ইউনিয়ন হাইস্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামসুন্দর মল্লিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আরামবাগ অফিসের অতিরিক্ত পরিদর্শক জয়তী রায়। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তদন্ত চলে। জয়তীদেবী জানিয়েছেন, খরচের হিসাবপত্র দেখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁর বাড়িতে রেখে দেওয়া খাতাপত্র আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “সমস্ত বিষয়টা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।” দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শ্যামসুন্দরবাবু। তাঁর দাবি, “কোনও দুর্নীতি হয়নি। স্কুলের নথিপত্র থেকেই প্রশাসন তার প্রমাণ পেয়ে যাবে। আমার চাকরি জীবনে কলঙ্ক লেপন করা হচ্ছে।” স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার শ্যামসুন্দরবাবু অবসর নেন। সে দিনই তআর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে বিকেল থেকে তাঁকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখেন কিছু গ্রামবাসী, পাওনাদার এবং স্কুল পরিচালন সমিতির সদস্যদের একাংশ। শ্যামসুন্দরবাবুকে হেনস্থারও অভিযোগ ওঠে। তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গোঘাট-২ ব্লকের যুগ্ম বিডিও রামকৃষ্ণ বসু এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে স্কুল সম্পাদক বিকাশ লাহা অভিযোগে জানান, গত কয়েক মাসে স্কুলের ভবন নির্মাণ, মিড-ডে মিল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিসাবের প্রায় লাখ পাঁচেক টাকা গরমিল রয়েছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যাঁদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অডিটে দেখানো হয়েছে, তাঁদের টাকা মেটানো হয়নি। শ্যামসুন্দরবাবু নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পরিচালন সমিতিকে অন্ধকারে রেখে বেশ কিছু নকল কাগজপত্র দিয়ে নিজের ঘরে ‘অডিট’ করিয়েছিলেন।
বাস নয়ানজুলিতে, জখম ৩০
নিজস্ব সংবাদদাতা • আরামবাগ
একটি ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে মঙ্গলবার সকালে আরামবাগের গড়বাড়ি এলাকায় একটি যাত্রী বোঝাই বাস উল্টে গেল নয়ানজুলিতে। জখম হলেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। স্থানীয় মানুষ, দমকল এবং পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে আরামবাগ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি দ্রুত গতিতে তারকেশ্বর থেকে খড়গপুর যাচ্ছিল। গড়বাড়িতে একটি ছাগল রাস্তার মাঝামাঝি চলে আসায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পঞ্চায়েতে চুরি
নিজস্ব সংবাদদাতা • গুপ্তিপাড়া
হুগলির গুপ্তিপাড়া-১ পঞ্চায়েত অফিস থেকে চুরি গেল বেশ কিছু নথিপত্র। মঙ্গলবার সকালে ওই পঞ্চায়েতের কর্মীরা অফিসে ঢুকতে গিয়ে দেখেন, দরজার তালা ভাঙা এবং আলমারি খোলা। কাগজপত্র লন্ডভন্ড। তাঁরা পুলিশে খবর দেন। চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেউ ধরা পড়েনি।
হাসপাতাল রোডে আলো নেই, দুর্ভোগ
রাতভর রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনের ভিড় লেগে থাকে উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু উদয়নারায়ণপুরের মূল থেকে হাসপাতাল রোডের এক কিলোমিটার পর্যন্ত রাতে কোনও আলো জ্বলে না। ফলে, দীর্ঘদিন ধরে রোগী এবং সাধারণ মানুষের অন্ধকারে ওই রাস্তায় যাতায়াতে সমসা হয়। দুর্ঘটনাও ঘটে। অথচ, রাস্তার উপরে বিদ্যুতের লাইন এবং খুঁটি সবই রয়েছে। নেই শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমস্যার কথা পঞ্চায়েত সমিতিকে জানিয়েও লাভ হয়নি। হাসপাতাল ছাড়াও ওই রাস্তা ধরে হাওড়ার জঙ্গলপাড়া, কুরচি, শিবপুর, শিবানীপুর ইত্যাদি এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। চলে যানবাহনও। কবে ওই রাস্তায় আলো জ্বলবে তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীদের প্রশ্নের অন্ত নেই। সংশ্লিষ্ট কুরচি-শিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবশ্রী অধিকারী বলেন, “হাসপাতাল রোডে আলোর ব্যবস্থার জন্য পঞ্চায়েত সমিতিতে জানিয়েছি।” উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চৈতালি সাঁতরার দাবি, হাসপাতাল রোডে আলোর ব্যবস্থার জন্য আলোচনা চলছে। তবে, রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার উদয়নারায়ণপুর শাখার স্টেশন ম্যানেজার নিজামুল গনি জানিয়েছেন, ওই রাস্তায় আলোর ব্যবস্থার ব্যাপারে ব্লক প্রশাসন বা পঞ্চায়েত সমিতি থেকে কিছু জানানো হয়নি। জানানো হলেই ওখানে আলোর ব্যবস্থা করা হবে।
ট্রেনের ধাক্কা, মৃত ছাত্রী
ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর। মঙ্গলবার, হাওড়া-আমতা শাখার নয়াবাজে। মৃতার নাম লিপি সর্দার। সে স্থানীয় সাতাশি হাইস্কুলের ছাত্রী। এ দিন রেল লাইনের পাশ দিয়ে পড়শি এক ছাত্রের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার সময়ে হাওড়া-আমতা লোকাল ধাক্কা মারে লিপিকে। স্থানীয়েরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাথরে পড়ে গিয়ে সামান্য আহত হয় তার সঙ্গে থাকা পড়ুয়া। এর পরে স্থানীয়েরা আধ ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। আটকে পড়ে আমতা লোকাল ও দু’টি মালগাড়ি। রেল পুলিশ ও রেলরক্ষী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।
গোঘাটে ফুটবল
আরামবাগ মহকুমা সুপার লিগ ফুটবলের ‘বি’ গ্রুপের খেলায় মঙ্গলবার গোঘাটের রাঙামাটি পোনপাড়া আদিবাসী গাঁওতা ২-০ গোলে হারিয়ে দিল পশ্চিমপাড়া উদীয়মান কিশোর সঙ্ঘকে। গোল দুটি করেন তোতন পাকিরা এবং চন্দন হেমব্রম। খেলাটি হয় শ্রীপুর মাঠে।
দেহ উদ্ধার
মঙ্গলবার সকালে আরামবাগের তেলুয়া মাঠ থেকে এক প্রৌঢ়ার মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। পুলিশ জানায়, মৃতার নাম আল্পনা সরকার (৫০)। বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে দু’কিলোমিটার দূরে বাতানল গ্রামে। সোমবার বিকেলে তেলুয়ায় নিজের জমি তদারকি করতে গিয়ে আর ফেরেননি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দিন প্রতিবেশীরাই খুঁজতে বেরিয়ে দেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। দেহটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যোগাসনের আসর
সম্প্রতি চুঁচুড়ায় হল ৩৩তম সারা বাংলা যোগাসন প্রতিযোগিতা। হুগলি জেলা ফিজিক্যাল কালচার ক্লাবস ফেডারেশন এবং যোগ অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি হয় জ্যোতিষচন্দ্র বিদ্যাপীঠ অঙ্গনে। ১৯টি জেলা থেকে অংশ নেন প্রায় ৫০০ প্রতিযোগী। শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হন কলকাতার সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়।