Advertisement
E-Paper

স্পেশ্যালিটির গেরো, বিভ্রাট পরিষেবাতেই

বুক, নাক-কান-গলা ও চর্মরোগীদের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করানোর জন্য যেতে হয় সুপার স্পেশ্যালিটি ভবনে। কিন্তু টিকিট কাটতে হয় মহকুমা হাসপাতালের বহির্বিভাগ কাউন্টারে।

পীযূষ নন্দী

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:৩১
নতুন: আরামবাগ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালই। ছবি: মোহন দাস

নতুন: আরামবাগ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালই। ছবি: মোহন দাস

ঝাঁ চকচকে হাসপাতাল ভবন। গাল ভরা নাম সুপার স্পেশ্যালিটি— আরামবাগ পেয়েছে গত বছর ১ জুন। কিন্তু তাতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হচ্ছে রোগীর, অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁরা বলতে শুরু করেছেন আদৌ এ হাসপাতাল কোনও দিন চালু হবে কি না তাই সন্দেহ!

কিন্তু কেন এমন হল?

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ষাট কোটিরও বেশি অর্থ বরাদ্দে তৈরি আরামবাগের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল খাতায় কলমে চালু হয়ে গিয়েছে গত জুনে। মুখ্যমন্ত্রী তারকেশ্বরের প্রশাসনিক সভা থেকে সেটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু তারপর আরামবাগ মহকুমা হাসপাতাল থেকে মাত্র তিনটি বহির্বিভাগ স্থানান্তরিত হয়েছে সুপার স্পেশ্যালিটি ভবনে। তাতেই আতান্তরে রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।

তাঁদের অভিযোগ, বুক, নাক-কান-গলা ও চর্মরোগীদের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করানোর জন্য যেতে হয় সুপার স্পেশ্যালিটি ভবনে। কিন্তু টিকিট কাটতে হয় মহকুমা হাসপাতালের বহির্বিভাগ কাউন্টারে। এক ভবন থেকে অন্য ভবনে পায়ে হেঁটে যেতে গেলে সময় লাগে অন্তত ১০-১৫ মিনিট। চিকিৎসক দেখার পর ফের আসতে হয় মহকুমা হাসপাতাল ভবনে। কারণ সেখানেই রয়েছে প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি। যাবতীয় পরীক্ষা হয় সেখানে। ওষুধ পেতে গেলেও আসতে হয় মহকুমা হাসপাতালে। ফলে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনই কষ্ট হয় রোগীদের।

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় আরামবাগ সুপার স্পেশ্যালিটির। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সাজানো পাঁচ তলা চোখ ধাঁধানো হাসপাতালে রয়েছে ৩০০ শয্যা। ২০১৭ সালের গোড়াতেই শেষ হয়ে গিয়েছে নির্মাণ কাজ। কিন্তু সেখানে শুধু ওই তিন বিভাগের চিকিৎসকরা বহির্বিভাগের চিকিৎসাটুকু করে থাকেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীর অভাবেই সুপার স্পেশ্যালিটি ভবনে চালু করা যাচ্ছে না সব বিভাগ।

মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, চিকিৎসক নিয়োগ না করে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল নির্মাণ আদতে ভাঁওতা। আরামবাগ সিপিএমের এরিয়া সম্পাদক পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “সুপার স্পেশ্যালিটির বিল্ডিং হল, উদ্বোধন হল, কিন্তু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী নেই।”

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী অবশ্য বলছেন, “সমস্ত বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নজরে আছে।”

Arambagh Super Specialty Hospital Health service
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy