যত্রতত্র পড়ে রয়েছে কাগজ ও প্লাস্টিকের কাপ, বালতি, থার্মোকলের ভাঙা বাক্স। তার উপরে জমে থাকা বৃষ্টির জলে ভাসছে ডেঙ্গির জীবাণু বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই মশার শয়ে শয়ে লার্ভা। এমনকী, পিউপা-ও (পূর্ণাঙ্গ মশা হওয়ার ঠিক আগের পর্যায়)।
এই চিত্র যে সে জায়গার নয়, শিবপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (আইআইইএসটি) ক্যাম্পাসে। যেখানে কয়েক হাজার পড়ুয়া, অধ্যাপক ও কর্মী বসবাস করেন। শনিবার হাওড়া পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) ভাস্কর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ওই প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস, কর্মী-আবাসন, খেলার মাঠ-সহ প্রায় সর্বত্র অভিযান চালানো হয়। পুরকর্মীরা এডিস মশার যে লার্ভা খুঁজে পান, তা আইআইইএসটি-র অধ্যক্ষ অজয় রায়কে ডেকে দেখানো হয়। ক্যাম্পাস চত্বরের এই অবস্থার কথা জেনে ক্ষুব্ধ অজয়বাবু সঙ্গে সঙ্গে জঞ্জাল সাফাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ডেকে বলেন, যে সব জায়গায় জল জমে আছে, অবিলম্বে তা পরিষ্কার করতে হবে।
এ দিন দুপুরে ভাস্করবাবুর নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জনের একটি দল আইআইইএসটি-তে যান বৃষ্টির পরে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। ওই দলে ছিলেন হাওড়া পুরসভার মেডিক্যাল অফিসার আশুতোষ কুণ্ডু ও বিশাখা হালদার। ভাস্করবাবু জানান, গত তিন দিন ধরে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক জায়গায় এডিস ইজিপ্টাইয়ের লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। তাই এ দিন তিনি মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য পুরসভার তৈরি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের ৩০ জন প্রশিক্ষিত কর্মীকে নিয়েই সেখানে যান। তার পরে কর্মীদের আবাসন-সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ফেলে দেওয়া কাগজের কাপ, থার্মোকলের বাক্স, প্লাস্টিকের ভাঙা বালতির জমে থাকা জলে মশার লার্ভা ভাসতে দেখা যায়। পুরসভার কর্মীরা সেগুলিকে তুলে এনে মশা মারার তেল দিয়ে মারেন।
খবর পেয়ে কর্মী-আবাসনের কাছে পুরসভার অভিযান দেখতে চলে আসেন আইআইইএসটি-র অধ্যক্ষ অজয়বাবু নিজে। পুরসভার তরফে তাঁকে ডেঙ্গি প্রতিরোধে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি কী ভাবে ডেঙ্গির লার্ভা জন্মায়, তা-ও দেখানো হয়। বছর দুই আগে কর্মী-আবাসনে ডেঙ্গিতে এক জনের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অজয়বাবুকে জানান, পুরসভার কাজে আইআইইএসটি সব রকমের সাহায্য করে। তাই তিনি মনে করলে পুরসভার কাছে যে প্রশিক্ষিত দল রয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠানের জঞ্জাল অপসারণ দফতরের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, হাওড়ায় শুধু কি আইআইইএসটি ছাড়া অন্য কোথাও অভিযান হচ্ছে না?
পুরসভার দাবি, সারা বছর ধরে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন। পাশাপাশি, কোন কোন এলাকায় জ্বর বা অন্য অসুখ হচ্ছে, তার খোঁজও রাখছেন। গত বছর হাওড়ায় ডেঙ্গি যে ভয়াবহ আকার নিয়েছিল, তা মনে করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছেবলে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গত বছর যে সমস্ত ওয়ার্ডে ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই সব এলাকায় বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত মশা মারার তেল লার্ভিসাইড স্প্রে করা ও ব্লিচিং ছড়ানো হচ্ছে।