Advertisement
E-Paper

যত্নের অভাবে শ্রীহীন ফুলেশ্বরের পর্যটন কেন্দ্র

আছে অনেক কিছুই। উন্মুক্ত গঙ্গার ধার, হু হু হাওয়া, বসার বেঞ্চ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর হাতে পোঁতা দু’টি বকুল গাছ, সান বাঁধানো পুকুরঘাট, সেচ দফতরের বাংলো, বাহারি ফুলের বাগান।

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০১৭ ০১:৩৫

আছে অনেক কিছুই। উন্মুক্ত গঙ্গার ধার, হু হু হাওয়া, বসার বেঞ্চ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর হাতে পোঁতা দু’টি বকুল গাছ, সান বাঁধানো পুকুরঘাট, সেচ দফতরের বাংলো, বাহারি ফুলের বাগান।

কিন্তু কোথাও কোনও যত্নের ছাপ নেই। বসার বেঞ্চ বেশির ভাগই ভাঙা। পুকুর গিয়েছে মজে। তা এখন মশার আঁতুরঘর। বকুল গাছের গোড়া ঢেকেছে গুটখা, পানপরাগের পিকে। গঙ্গার পাড়ে ওড়ে চোলাই মদের পাউচ।
ফুলেশ্বরের সেচবাংলো সংলগ্ন মাঠটি হাওড়া জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধে— বহু মানুষ সময় কাটাতে আসেন এখানে। শীতে পিকনিকের আসর বসে। কিন্তু দিন দিন জায়গাটির অবস্থা যে ভাবে শোচনীয় হয়ে উঠছে, তাতে এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। তাঁদের অভিযোগ, স্রেফ প্রশাসনিক উদাসীনতার ফলেই জায়গাটির এই হাল হয়েছে।
ছোটবড় যে কোনও পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। কিন্তু এখানে সেই সুযোগ তেমন ভাবে তৈরি হচ্ছে না বলে আক্ষেপ রয়েছে অনেকের। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বেঞ্চগুলি মেরামত, নদীর পাড়ে পাকা রাস্তা, রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বাঁধ মেরামতি এবং চোলাই বিক্রি বন্ধ হলে এটি একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে বকুল গাছ দু’টিরও পরিচর্যা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।
ওই মাঠের একাংশে লোহার বেড়া দিয়ে বাঁধানো বেদিতে রয়েছে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামে স্তুতি। বেদির পাশেই বাগানের মধ্যে রয়েছে বকুল গাছ দু’টি। তার মাঝখান দিয়ে তৈরি হয়েছে সান বাঁধানো ঘাট। সেই ঘাট সটান নেমে গিয়েছে পুকুরে। দেখলেই বোঝা যায়, মাঠের কোনও পরিচর্যা হয় না। রাতে এলাকায় সব আলো জ্বলে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। নদীর পাড়ে কিছুটা অংশ সিমেন্টে বাঁধানো হলেও বেশির ভাগটাই খোলা পড়ে রয়েছে। মাঠের একাংশে প্রকাশ্যেই চোলাই বেচাকেনা চলে। চোলাইয়ের পাউচে মাঠ, নদীর ঘাট ভরে থাকে। বকুল গাছের গোড়ায় আগুন জ্বালিয়ে রান্নাও চলে। তৈরি হয় চোলাইয়ের ‘চাট’।
এই দৃশ্যগুলিরই বদল চান স্থানীয়েরা। হাওড়া (গ্রামীণ) জেলা পুলিশ কর্তাদের দাবি, এই জায়গায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। বাগানে বসে কাউকে চোলাই খেতে দেখলে ধরা হয়। অসামাজিক কার্যকলাপ অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তার পরেও কী করে প্রকাশ্যে চোলাই ব্যবসা চলে, তা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। উলুবেড়িয়া পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান আব্বাসুদ্দিন খান জানিয়েছেন, ওই এলাকাটি পুরসভা নয়, সেচ দফতরের অধীনে পড়ে। কাজেই দেখভালের দায়িত্ব ওই দফতরেরই।
কী বলছে সেচ দফতর? সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তবুও আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’’

Fuleshwar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy