Advertisement
E-Paper

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা অধরা, ক্ষোভ

দিন কুড়ি ধরে জেলা জুড়ে দুষ্কৃতীদের ধরতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ। শতাধিক দুষ্কৃতী গ্রেফতার হয়েছে। শতাধিক অস্ত্র, বোমা উদ্ধার হয়েছে। অথচ বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শাসক দলের নেতাদের ধরা হচ্ছে না।

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০১৭ ০০:৪১

দিন কুড়ি ধরে জেলা জুড়ে দুষ্কৃতীদের ধরতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিশ। শতাধিক দুষ্কৃতী গ্রেফতার হয়েছে। শতাধিক অস্ত্র, বোমা উদ্ধার হয়েছে। অথচ বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শাসক দলের নেতাদের ধরা হচ্ছে না। গুরুতর অভিযোগ থাকলেও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলছেন এলাকার বাসিন্দা থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

এক মাস আগে তারকেশ্বরের তালপুর স্টেশনের কাছে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হ‌ন অশোক ভট্টাচার্য নামে এক প্রৌঢ়। তাঁর পরিবারের তরফে তারকেশ্বরের তৃণমূল নেতা মহারাজ নাগের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই প্রৌঢ়কে শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত করে সালিশি সভা বসিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করার অভিযোগ ওঠে মহারাজের বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ, মহারাজের সঙ্গে দলীয় নেতাদের একাংশের যোগাযোগ রয়েছে বলে তৃণমূলের অন্দরেই খবর।

দিন কয়েক আগে জাঙ্গিপাড়ার জঙ্গলসুফিতে তৃণমূলের এক কর্মীর বাড়িতে বোমাবাজি এবং গু‌লিচালনার ঘটনায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পলাশ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ হয়। সম্প্রতি রিষড়ায় এক দুষ্কৃতী খুনে তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলির নাম জড়ায়। কোন্নগর পুরসভার কাউন্সিলর স্বপন দাসের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূলেরই পুরপ্রধান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় এবং উপ-পুরপ্রধান গৌতম দাসের বিরুদ্ধে। কানাইপুরে মাছের ভেড়ি নিয়ে গোলমালে তৃমমূল নেতাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। বছর কয়েক আগে কানাইপুরে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্য খুনে তৃণমূল নেতা আচ্ছালাল যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়। কোনও ক্ষেত্রেই পুলিশ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

জেলার পুলিশকর্তারা অবশ্য অভিযোগ মানেননি। তাঁদের দাবি, মহারাজের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জাঙ্গিপাড়ার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। কোন্নগর বা রিষড়ার ঘটনায় নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। জেলার পুলিশ সুপার সুকেশ জৈন‌ বলেন, ‘‘প্রতিটি ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা না থাকলে তো তাঁকে গ্রেফতার করা যায় না।’’

তবে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, থানায় ঢুকে পুলিশ অফিসারকে মারধর করেও দিব্যি পার পেয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেতা, এমন নজিরও রয়েছে। কয়েক বছর আগে চুঁচুড়া থানায় ঢুকে এক সাব-ইনস্পেক্টরকে মারধরের (এখন ইনস্পেক্টর) অভিযোগ ওঠে উপ-পুরপ্রধান অমিত ঘোষের বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও ‘তদন্ত বেশিদূর গড়ায়নি’। কয়েক দিনের মধ্যেই বরং ওই পুলিশ অফিসার বদলি হয়ে যান।

জেলা সিপিএম সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরী ব‌লেন, ‘‘একমাত্র ওদের গোষ্ঠীকোন্দলে কারও ক্ষমতা বেশি থাকলে অপর পক্ষের লোককে কয়েক দিনের জন্য গ্রেফতার করানো যেতে পারে। কিন্তু জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কিছুই করে না।’’ বিজেপির ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি স্বপন পালের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল নেতারাই তো পুলিশকে চালান। তাঁদের গ্রেফতারের মতো বুকের পাটা পুলিশের থাকবে কী করে! অতএব, সাত খুন মাফ।’’

TMC Arrest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy