পাঁচ বছর আগে ওঁরা ছিলেন নেহাতই কিশোর-কিশোরী। এ বার পুরভোটে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করার গুরুদায়িত্ব ওঁদের ঘাড়ে। চাওয়া-পাওয়া নিয়ে বক্তব্য ভিন্ন হলেও একটা বিষয়ে মিল রয়েছে ওঁদের মধ্যে। সেটা হল, প্রথম বার নিজের এলাকায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য দিন গুণছেন শ্রীরামপুর পুর এলাকার বাসিন্দা, নতুন প্রজন্মের এই প্রতিনিধিরা।
পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিতশ্রী দাস। শ্রীরামপুর কলেজের দর্শন অনার্সের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। প্রথম বার ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেব। এর উত্তেজনাই আলাদা। আমার ভোট এক জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে গুরুত্ব পাবে, এটা ভাবতেই ভাল লাগছে।’’ নতুন ভোটারের প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘‘আমি চাই দুর্নীতি বন্ধ হোক। যিনি ন্যায়ের পক্ষে আছেন এবং থাকবেন বলে মনে হবে, তাঁকেই ভোট দেব।’’ শহরের রাস্তাঘাটে জল জমার সমস্যা চিরতরে দূর করতে স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক, নতুন কাউন্সিলর বা পুরবোর্ডের কাছে এই দাবি জানাতে চান বিতশ্রী।
বিতশ্রী দাস, জয় দাস, সুব্রত কর, উপাসনা হালদার, সুদীপ সাহানি। ছবি: প্রকাশ পাল।
এ বার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয় দাস। তাঁর নামও ভোটার তালিকায় জুড়েছে এ বার। জানালেন, প্রথম বার, তাই টেনশন রয়েছে। যিনিই জিতুন, তাঁর কাছে একরাশ প্রত্যাশা এই নব্যযুবকের। তাঁর কথায়, ‘‘পরিষেবা বা উন্নয়ন নিশ্চয়ই চূড়ান্ত গতি পাক। কিন্তু কর্মসংস্থানের বিষয়টি যেন অবহেলিত না থাকে। বহু ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়েও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। যিনি কাউন্সিলর হবেন, তাঁকে অনুরোধ করব কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করুন।’’
১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী উপাসনা হালদারের বাড়ির কাছ দিয়েই বয়ে চলেছে গঙ্গা। চান, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসুক এলাকা। আগের বছর লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবে পুরসভা নির্বাচনে এই প্রথম। উপাসনার কথায়, ‘‘গঙ্গার পাড় আরও সুন্দর করে সাজানো দরকার। যত বেশি সম্ভব গাছগাছালি লাগিয়ে মনোরম পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। শহরের রাস্তাঘাট আগের থেকে ভাল হলেও আমাদের বাড়ির পাশের রাস্তাটার সংস্কার দরকার।’’ যিনি জিতবেন, তাঁকে এই সমস্ত দাবির কথা জানাতে চান এই তরুণী।
ভোটার তালিকায় নাম ওঠায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ পড়ুয়া সুব্রত কর মহাখুশি। ভোটার কার্ড হাতে পাওয়ার পরেই দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য রকম একটা অনুভূতি হয়েছিল, জানালেন তিনি। এ বার প্রথম ভোট দিতে যাওয়ার আগে বেশ উত্তেজিত তিনি। সুব্রতর বক্তব্য, ‘‘অন্য ওয়ার্ডগুলির নিরিখে আমাদের এখানে উন্নয়ন তেমন হয়নি বলেই আমার মনে হয়। গঙ্গার ঘাটের সৌন্দ্যর্যায়ন সে ভাবে হয়নি। ত্রিফলা আলো বসেনি। যে ঘাটটিতে প্রতিমা বিসর্জন হয়, তা আরও ভাল করা দরকার। আমি চাই, যিনি কাউন্সিলর হবেন, তিনি এই বিষয়গুলি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন।’’
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুদীপ সাহানিও প্রথম বার ভোট দেবেন। এ নিয়ে কলেজ ছাত্রটির বক্তব্য, ‘‘আমি চাই সামগ্রিক ভাবে এলাকার উন্নয়ন হোক।’’