সরকারি নলকূপ বসানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হল খানাকুলের শ্রীরামপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় পঞ্চায়েত সদস্য সুখেন্দু ঘোষ-সহ মোট ৭ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে রঘুনাথ ঘোষ নামে এক প্রৌঢ়কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ জানায়, রাতেই দু’পক্ষের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁরা হলেন হারাধন ঘোষ, প্রসেনজিৎ ঘোষ, তাপস ঘোষ এবং সনৎ ঘোষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রামমোহন ২ পঞ্চায়েত এলাকার শ্রীরামপুর গ্রামে জেলা পরিষদ থেকে একটি নলকূপ বসানোর অনুমোদন মেলে। অভিযোগ, বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে জেলা পরিষদের সদস্য শিখা দলুই এবং পঞ্চায়েত সদস্য সুখেন্দু ঘোষ যোগসাজশ করে ওই পঞ্চায়েত সদস্য নিজের ব্যক্তিগত জায়গা নির্বাচন করেন। নলকূপ বসানোর জন্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। গত ১১ জানুয়ারি নলকূপ বসানো হয়। মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হতেই গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে সভাধিপতি মেহবুব রহমানের কাছে অভিযোগ করা হয়। বিরোধী পক্ষের প্রহৃত তৃণমূল নেতা বিল্টু ঘোষের অভিযোগ, ‘‘জেলা পরিষদে বিষয়টি জানানোয় ওই সদস্য রাতে লোকজন নিয়ে হামলা চালায়।’’
পঞ্চায়েত সদস্য সুখেন্দু ঘোষের দাবি, ‘‘গ্রামে কেউ জায়গা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাদের জায়গায় নলকূপ বসানোর জন্য বলেন জেলা পরিষদ সদস্য শিখা দলুই।’’ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, সরকারি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছিলেন বিল্টু গোষ্ঠীর কয়েকজন। তার প্রতিবাদ করায় নলকূপের বিষয়টি সামনে রেখে ওঁরাই রাতে প্রথম হামলা চালান। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য শিখা দলুই। জেলা পরিষদের সভাপতি মেহবুব রহমান বলেন, ‘‘ওই নলকূপ ব্যক্তিগত জায়গায় বসানোর কোনও প্রশ্ন নেই। জেলা পরিষদের সদস্যের ভূমিকা-সহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’