ইন্দিরা আবাস যোজনা প্রকল্পে কিস্তির টাকা নিয়েও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঘর তৈরি না করায় আরামবাগ ব্লকের ৯৫ জন উপভোক্তার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করল প্রশাসন।
গত শুক্রবার বিডিও বদরুজ্জামান আরামবাগ থানায় ওই এফআইআর করেন। তিনি জানান, জেলাশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৩-’১৪ এবং ২০১৪-’১৫ অর্থবর্ষে ওই প্রকল্পে যে সব উপভোক্তা বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলাশাসক সঞ্জয় বনশল গত অগস্ট মাসে জেলার বিভিন্ন ব্লকে ওই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নির্দেশে জানান, ১৮টি ব্লকের ২০৭টি পঞ্চায়েতে ওই দুই আর্থিক বছরে যে সব উপভোক্তা বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ করেননি, নভেম্বর মাসের মধ্যে তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ব্যবস্থা নিতে হবে। অক্টোবর মাসের শেষে চার জন অতিরিক্ত জেলাশাসকককে মাথায় রেখে বিষয়টি তদারকির ব্যবস্থাও হয়। গত ১ নভেম্বর থেকে সরেজমিনে তদন্ত এবং শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে উপভোক্তাদের সমস্যা বিবেচনা করে ৩ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ করবেন বলে অঙ্গীকারপত্রে উপভোক্তাদের সই করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও অনেকেই তা করেননি বলে অভিযোগ।
২০১৩-’১৪ আর্থিক বছরে আরামবাগ ব্লকের ১৫টি পঞ্চায়েতে ইন্দিরা আবাস প্রকল্পে বাড়ি তৈরির টাকা পান ৮১৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন তৃতীয় কিস্তির টাকা নেননি। গৃহ নির্মাণও সম্পূর্ণ করেননি। পরের আর্থিক বছরে প্রকল্পের আওতায় আসেন ২২৯১ জন। এঁদের মধ্যে ৫৮ জন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা নেননি। নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত ঘর তৈরিও করেননি। এই ৯৫ জনের বিরুদ্ধেই এফআইআর হয়েছে। ওই অর্থবর্ষে জেলায় ওই প্রকল্পে অনুমোদন পান ১১ হাজার ২০৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৬১৯ জন অক্টোবর মাস পর্যন্ত তৃতীয় কিস্তির টাকা নেননি। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে শুনে ৮৯ জন নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত কাজ করেছেন। ২০১৪-’১৫ অর্থবর্ষে ২৫ হাজার ৩৮৩ জন উপভোক্তার মধ্যে অক্টোবর মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা নেননি ৭৬৬ জন। প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৬৬১ হয়েছে। সকলের ক্ষেত্রেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
বাড়ি সম্পূর্ণ করতে না পারা উপভোক্তাদের মধ্যে আরামবাগের মাধবপুর পঞ্চায়েত এলাকার এক মহিলা বলেন, ‘‘দু’টি কিস্তিতে ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছি। তার মধ্যে এলাকার এক তৃণমূল নেতা হাজার দশেক টাকা নিয়ে নিয়েছেন। বাকি টাকায় কিছুই হয় না। আবার বাড়ি না করলে পুলিশ তুলে নিয়ে যাবে বলছে। ব্লকে গিয়ে আরও দু’মাস সময় চাইব।”
দুর্ঘটনায় মৃত শিশু। পাকা রাস্তা তৈরির কাজের শুরু উপলক্ষে মঞ্চ বেঁধে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল স্থানীয় দুই গ্রাম পঞ্চায়েত। অনুষ্ঠান মঞ্চে বসেছিলেন বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এলাকার কয়েক’শ মানুষ। আর সেই সময় জন্যই মেশিন ভ্যান বোঝাই করে বালি নিয়ে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় সেটি। উল্টে পড়ে মৃত্যু দাদুর কোলে থাকা তিন বছরের এক শিশুর। গুরুতর আহত হয়েছে তাঁর দাদু । সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার গোকুলনগর গ্রামে।