আট দিন আগে বোমার আঘাতে জখম হয়েছিলেন শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল, তৃণমূল নেতা উত্তম রায়। তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার বিকেলে শেওড়াফুলি স্টেশন থেকে অভিযুক্ত বাবলু চৌধুরী ওরফে দানাদার এবং অখিলেশ সিংহ নামে বছর আঠারোর দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতেরা অপরাধের কথা কবুল করে জানিয়েছে, এক দুষ্কৃতী উত্তমবাবুর উপর হামলার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি করে। ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল।
গত ১১ নভেম্বর সকালে শহরের মল্লিকপা়ড়ায় বাড়ির কাছেই উড়ালপুলের নীচে বেঞ্চ পেতে বসে খবরের কাগজ প়ড়ছিলেন শ্রীরামপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই তৃণমূল কাউন্সিলর। সেই সময় তিন দুষ্কৃতী উত্তমবাবুর দিকে বোমা ছোড়ে। তাঁর বাঁ পায়ে স্প্লিন্টার ঢোকে। উত্তমবাবু তাঁকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে দানাদার এবং অখিলেশ ঘটনার পরেই বিহারে পালায়। পুলিশ তাদের গতিবিধির উপরে নজরদারি শুরু করে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ তারা ডেরা বদল করার জন্য ট্রেন ধরতে শেও়ড়াফুলি স্টেশনে আসে। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে ছিল। ধৃতেরা শ্রীরামপুরের রেল ইয়ার্ড লাগোয়া রাইল্যান্ড রোড এলাকার বাসিন্দা।
জেলার পুলিশ সুপার প্রবীন ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘ধৃতেরা দোষ কবুল করেছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও কয়েকজন রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’’
ধৃতদের জেরার পরে তদন্তকারী অফিসারদের ধারণা, সরিয়ে দিতে নয়, টাকাকড়ি নিয়ে লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদের জেরে উত্তমবাবুকে সমঝে দিতে রীতিমতো পরিকল্পনা করে হামলা করে দুষ্কৃতীরা। যে দুষ্কৃতীদের ভাড়া করেছিল, সে এলাকার দাগি দুষ্কৃতী নটনারায়ণ ঘোষ ওরফে যিশুর ঘনিষ্ঠ শাগরেদ হিসেবে পরিচিত। ধৃতেরা পুলিশকে জানিয়েছে, ঘটনার দিন ওই দুষ্কৃতীর সঙ্গেই তারা মল্লিকপাড়ায় যায়। সেখানে একটি দোকান থেকে পরোটা খায়। ওই দুষ্কৃতীই বেঞ্চে বসে থাকা উত্তমবাবুকে দেখিয়ে দেয়। এর পরেই চুক্তি অনুযায়ী তাঁর পায়ের সামনে বোমা ছোড়ে তারা। জখম অবস্থাতেও উত্তমবাবু পিছনের একটি গলিতে ঢুকে পড়েন। তাঁর দিকে তারা রিভলভার ধরলেও গুলি ছো়ড়েনি। আরও একটি বোমাও ছিল তাদের হাতে। সেটি হাতে নিয়েই তারা হেঁটে ঝিলবাগান এলাকা হয়ে স্টেশনের দিকে চলে যায়।
তদন্তকারীরা ওই হামলার পিছনে লেনদেন সংক্রান্ত গোলমালের উপরে জোর দিলেও জমিজমা নিয়ে বিবাদকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। উত্তমবাবু অবশ্য লেনদেন সংক্রান্ত গোলমালের কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমার সঙ্গে কারও লেনদেনের ব্যাপার নেই। এলাকায় দুষ্কৃতীদের রমরমা ছিল। আমি মদের ভাটি তুলে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করেছি। আমাকে সরিয়ে দিয়ে পেটোয়া কাউকে কাউন্সিলর করে দুষ্কৃতীরাজ কায়েম করতেই সুপারি কিলার লাগিয়ে হামলা করা হয়।’’
দলের পুরপিতার উপর হামলা হলেও শাসকদলকে সে ভাবে প্রতিবাদে নামতে দেখা যায়নি। ঘটনার দিন তারা শুধু একটি প্রতিবাদ সভা করে। শ্রীরামপুর পুরসভার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর উত্তমবাবু আগের বোর্ডে পূর্ত বিভাগের চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল ছিলেন। বর্তমান বোর্ডে চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল থাকলেও কোনও বিভাগ পাননি।