ধানকলে বিশ্বকর্মা পুজো নিয়ে বিবাদে বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে স্ত্রী, ছেলে এবং বউমাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার খানাকুল জগৎপুর এলাকায়। নিহতের নাম তারক ঘোড়ুই (৬৫)। রাতেই তাঁর ছেলে প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ধরা হয় স্ত্রী রিনাদেবী এবং পুত্রবধূ মিতালিকে। রিনাদেবী অপরাধের কথা কবুল করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
নিহতের পড়শিদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ জনের নামে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত প্রসেনজিৎকে শুক্রবার সকালে আরামবাগ আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাকে দু’দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। বাকি দু’জনকে শনিবার আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকবাবু বদরাগী ছিলেন। মদ্যপান করলে মারমুখী হয়ে উঠতেন। বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করতেন। বাড়ির লোক তো বটেই, প্রতিবেশীরাও তটস্থ থাকতেন। শনিবার তিনি ধানকলে বিশ্বকর্মা পুজোর বাজার করতে যান। সেখান থেকে ফিরতে তাঁর বিকেল হয় যায়। পুলিশের দাবি, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নিহতের স্ত্রী রিনাদেবী অপরাধের কথা কবুল করে জানিয়েছেন, বাজার থেকেই তাঁর স্বামী মদ্যপান করে এসে এ বার পুজোর দায়িত্ব ছেলেকে না দিয়ে তিনি নিজে সামলাবেন বলে দাবি করেন। ছেলেকে গালিগালাজ করতে থাকেন। রিনাদেবী তাঁকে বুঝিয়ে ভাত খাওয়াতে বসান। স্বামী ভাতের থালা ছুড়ে ফেলে তাঁকে হুড়কো দিয়ে পেটাতে উদ্যত হন। তিনি দৌড়ে ছেলের ঘরে ঢুকে পড়েন। পুত্রবধূ মিতালি শ্বশুরকে ফের ভাত দিতে যান। তাঁকেও তারকবাবু হুড়কো দিয়ে মারতে উদ্যত হন। স্ত্রীর চিৎকারে প্রসেনজিৎ দৌড়ে গিয়ে বাবার হাত থেকে স্ত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এর পরে ছেলেকে ধরেন তারকবাবু। রিনাদেবী ছেলেকে বাঁচাতে হুড়কো দিয়ে স্বামীর মাথায়-ঘাড়ে সজোরে মারতে থাকেন। তারপরেই নেতিয়ে পড়েন তারকবাবু। পড়শিরাই পুলিশ খবর দেন। রাতে পুলিশ গড়েরঘাট এলাকা থেকে প্রসেনজিৎকে ধরে।