Advertisement
E-Paper

বাঁধ ভেঙে ভাসল সিঙ্গুরের চার গ্রাম

জেলার অন্যত্র বন্যা পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রশাসনের কর্তারা যখন কিছুটা স্তস্তিতে, তখন একটি খালের বাঁধভাঙা জলে নতুন করে প্লাবিত হল হুগলির সিঙ্গুরের অন্তত চারটি গ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালের ওই ঘটনায় ডুবেছে বেশ কিছু খেত। তার পরেও প্রশাসন বাঁধ মেরামতে তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। অন্য দিকে, গ্রামে জল ঢোকা আটকাতে এই জেলারই পান্ডুয়ার জামনা গ্রামে ডিভিসি খালের উপর গ্রামবাসীরা একটি কালভার্ট কেটে দিয়েছেন। ফলে, সেখানে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাটা সার্ভিসের মাধ্যমে বাস চলছে।

দীপঙ্কর দে ও সুশান্ত সরকার

শেষ আপডেট: ০৮ অগস্ট ২০১৫ ০১:৪৪
সিঙ্গুরের জুলকিয়া খালের বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে।

সিঙ্গুরের জুলকিয়া খালের বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে।

জেলার অন্যত্র বন্যা পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রশাসনের কর্তারা যখন কিছুটা স্তস্তিতে, তখন একটি খালের বাঁধভাঙা জলে নতুন করে প্লাবিত হল হুগলির সিঙ্গুরের অন্তত চারটি গ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালের ওই ঘটনায় ডুবেছে বেশ কিছু খেত। তার পরেও প্রশাসন বাঁধ মেরামতে তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। অন্য দিকে, গ্রামে জল ঢোকা আটকাতে এই জেলারই পান্ডুয়ার জামনা গ্রামে ডিভিসি খালের উপর গ্রামবাসীরা একটি কালভার্ট কেটে দিয়েছেন। ফলে, সেখানে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাটা সার্ভিসের মাধ্যমে বাস চলছে।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এমনিতেই সিঙ্গুরের জুলকিয়া খাল টইটম্বুর ছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে এখানকার গোপালনগরে ওই খালের একটি বাঁধ জলের তোড়ে ভেঙে যায়। ফলে, হু হু করে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করে। সিংহেরভেড়ি, রূপনারায়ণপুর, বাবুরভেড়ি, দেওয়ানভেড়ি প্রভৃতি গ্রাম জলমগ্ন হয়ে প়়ড়ে। গ্রামবাসীরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী বেচারাম মান্না এবং পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। ঠিক হয়, শুক্রবার সকাল থেকে বাঁধ মেরামতে প্রশাসন কোমর বেঁধে নামবে। কিন্তু তা হয়নি। সকালে প্রশাসনের তরফে বালির বস্তা এবং বাঁশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় এলাকায়। কিন্তু বাঁধ মেরামতের জন্য লোক পাঠানো হয়নি। গ্রামবাসীরাই বাঁধের ভাঙা অংশে কয়েকটি বাঁশ পোঁতেন এবং বালির বস্তা ফেলেন। দুপুরের পরে অবশ্য প্রশাসনের লোকজন কাজে নামেন। ফলে, কাজ শেষ হয়নি। গ্রামে জল ঢোকাও বন্ধ হয়নি।

Advertisement

বিডিও বিষ্ণু কবিরাজ অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘পুরোদমেই কাজ চলছে। শনিবারেই বাঁধটি মেরামত হয়ে যাবে।’’

অন্য দিকে, টানা বৃষ্টি আর ডিভিসি-র ছাড়া জলে দিন কয়েক আগে ডুবে যায় পান্ডুয়ার জামনা পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রাম। ডিভিসি খালের জল গ্রামে ঢোকা আটকাতে গুড়াপ-কালনা রাস্তায় (১১ নম্বর রুট) ওই খালের উপরে একটি কালভার্ট কেটে দেন গ্রামবাসীরা। ফলে, কয়েক দিন ধরে সেখান দিয়ে যান চলাচল বন্ধ। গাড়ি বা ট্রাক ঘুরপথে গন্তব্যে পৌছচ্ছে। কাটা সার্ভিসের মাধ্যমে বাস পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়েছেন।

পান্ডুয়ার বিডিও নবনীপা সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘ওখানে সমস্যার কথা জানি। সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে জল না নামায় এখনই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। জল নামলেই দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, জামনায় ওই রাস্তায় ডিভিসি খালের উপর পুরনো সেতু জীর্ণ হয়ে পড়ায় বছর খানেক আগে পাশেই নতুন একটি কালভার্ট তৈরি করা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই কালভার্টের জন্যই জলের প্রবাহ বাধা পায়। ফলে, প্রচুর জল গ্রামে ঢুকতে শুরু করে। ১২-১৪টি গ্রাম ডুবে যায়। দিন কয়েক আগে রায় জামনা, টোলা, ভুরকুণ্ডা, পিরাগ্রাম-সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে কালভার্টটি কেটে দেন। তাতে গ্রামের পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল হয়েছে বলে গ্রামবাসী আরুল রফিক, নিত্যানন্দ বাগ, অসীত ঘোষদের দাবি।

তবে, কালভার্ট কাটায় গ্রামবাসীদের কিছুটা সুরাহা হলেও নিত্যযাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। ওই রাস্তা দিয়ে ১১ নম্বর রুটের বাস চলে। হুগলির সঙ্গে বর্ধমান জেলার যোগাযোগের একটি মাধ্যম এই রাস্তা। কাটা সার্ভিসে বাস ধরতে হওয়ায় বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, কালভার্টটি কোনও রকমে তৈরি করা হয়েছিল। নতুন করে পোক্ত কালভার্ট তৈরি করার দাবি জানান তাঁরা। জামনা পঞ্চায়েতের প্রধান, সিপিএমের অমিয় টুডু বলেন, ‘‘বেহুলা এবং বাঙুর নদীর জল ডিভিসি খাল দিয়ে যায়। কালভার্টের জন্য জল যেতে না পারায় বহু গ্রাম ডুবে যাচ্ছিল। সেটি কাটা ছাড়া উপায় ছিল না। ‘বানভাসিদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কালভার্টের আমূল সংস্কার করতে হবে।’’

—নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy