আইপিএলে তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে আলোচনা চলে নিয়মিত। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী রানের গতি বাড়াতে পারেন না, এই অভিযোগ করেন সমালোচকেরা। তাঁদের হিংসুটে বলা অজিঙ্ক রাহানে জানালেন, নিজের ব্যাটিং নিয়ে কোনও সমস্যা নেই তাঁর। তিনি বরাবরই সহজাত এবং আগ্রাসী ক্রিকেটার। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে টি-টোয়েন্টির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।
চলতি আইপিএলে ওপেনার রাহানের পারফরম্যান্স কাঠগড়ায়। তবু রাহানে বলেছেন, “আমি বরাবরই সহজাত প্রবৃত্তির, আগ্রাসী ক্রিকেটার। কিন্তু আগে যে সব দলের হয়ে খেলেছি সেখানে আমার ভূমিকা আলাদা ছিল। আমার কাছে বরাবর দলই আগে। কী ভাবে অবদান রাখতে পারি সেটাই সব সময় ভাবি। দল পরিচালন সমিতি আমার কাছে যা চেয়েছিল সেটাই দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছি।”
কিছু দিন আগে এই সমালোচকদেরই হিংসুটে বলেছিলেন রাহানে। কেকেআরের অধিনায়ক বলেছিলেন, “আমার স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? ২০২৩ থেকে আমার স্ট্রাইক রেট অন্যতম সেরা। এর পরেও যাঁরা আমার ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা হয়তো খেলা দেখেই না অথবা আমাকে পছন্দ করে না।’’ যোগ করেছিলেন, ‘‘অনেকে চায় না আমি ক্রিকেট খেলি। আমার সাফল্যকে অনেকেই ঈর্ষা করে। ওরা চায় না আমি ভাল কিছু করি। অনেকেই চায় আমার অন্য ধরনের ইনিংস দেখতে। ওরা ভাবতে পারে না অজিঙ্ক রাহানে এই বয়সেও অনেককে ভুল প্রমাণিত করে চলেছে। তবে আমার ভাল লাগছে যে এখনও আমাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক, যাই হোক। আমি যে এখনও আলোচনার মধ্যে আসছি এটাই অনেক।’’
টেস্টের ধ্রুপদী ঘরানার ক্রিকেটার বলে পরিচিত রাহানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু উন্নতির নেপথ্যে নিজের পরিশ্রমকেই দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, “তিন-চার বছর আগে আমি এক দিন বসে ভাবছিলাম, কী ভাবে এখান থেকে উন্নতি করা যায় ব্যাটিংয়ে। কিছু অন্য ধরনের শট নিয়ে কাজ করা শুরু করি। তার মধ্যে দুটো শট ঠিক করে খেলতে দেড় বছর মতো সময় লেগেছিল। আমি অনুশীলন চালিয়েই গিয়েছি। বুকে, পেটে আঘাত লেগেছে। কিন্তু উন্নতির বাসনা মনে থাকলে আপনা থেকেই শরীর মানিয়ে নেয়। গত কয়েক বছরে এই ফরম্যাটে আমি ভালই খেলেছি এবং এখন ক্রিকেট উপভোগ করছি।”
আরও পড়ুন:
গত বছর থেকেই কেকেআরের অধিনায়ক রাহানে। গত বার অষ্টম স্থানে শেষ করেছিল দল। এ বারও পরিস্থিতি ভাল নয়। প্রথম তিন ম্যাচের একটিও জিততে পারেনি তারা। তবে কেকেআরের মতো দলের নেতৃত্ব দিতে পেরে খুশি রাহানে।
তিনি বলেছেন, “কেকেআরের অধিনায়কত্ব করার অনুভূতি অসাধারণ। এই দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে কৃতজ্ঞ। ক্রিকেটের প্রতি কলকাতার আবেগ অসামান্য। ইডেনে খেললেই সমর্থকেরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। আমি সেটা বুঝি। ওরা ক্রিকেট এবং দলকে খুবই ভালবাসে। তাই ট্রফি জেতাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”