বাড়িতে ম্যারাপ বাঁধা। ঘরভর্তি আত্মীয়-স্বজন। মেয়ের বিয়ের তোড়জোড় চলছে। হঠাৎ হাজির হলেন বিডিও এবং ওসি।
পুলিশ দেখে হকচকিয়ে যান বাড়ির লোকজন। প্রশাসনের কর্তারা তাঁদের জানান, বিয়ের নির্দিষ্ট বয়সের অনেক আগে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই এই বিয়ে বন্ধ করতে হবে। প্রথমে এই নির্দেশ মানতে রাজি হননি মেয়েটির বাড়ির লোকজন এবং পাড়াপড়শি। তবে শেষ পর্যন্ত সকলকে বুঝিয়ে নাবালিকার বিয়ে আটকাতে সমর্থ হয় পুলিশ-প্রশাসন। শনিবার এই ঘটনাই ঘটেছে হুগলির জিরাটের নেতাজি নগর কলোনিতে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরীর বয়স ১৪ বছর। সে এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা মারা গিয়েছেন। মা দিনমজুরি করে সংসার চালান। সম্প্রতি পান্ডুয়ার খন্যানের এক যুবকের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়। শনিবার ছিল বিয়ের দিন। এ দিনই হুগলির চাইল্ড লাইনের কর্তাদের কাছে এই বিয়ের খবর যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই দফতরের কর্তারা বিষয়টি চুঁচুড়ার মহকুমাশাসক সুদীপ সরকারকে জানান। মহকুমাশাসকের নির্দেশ পেয়ে বিডিও মুদাশ্বর মোল্লা এবং ওসি বরুণ মিত্র ঘটনাস্থলে যান।
বিডিও তাঁদের জানান, ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিয়ে আইনে নিষেধ রয়েছে। কন্যাশ্রী প্রকল্পের কথাও বলা হয়। প্রশাসনের কর্তাদের কাছে মেয়েটি জানায়, সে পড়তে চায়। কিন্তু পরিবারের বড়োদের কথায় বিয়েতে রাজি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মেয়েটির অভিভাবক এবং গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কর্তাদের বক্তব্য মেনে নেন। ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার হবে না এই মর্মে বিডিও-র কাছে মুচলেকা দেন মেয়েটির মা। প্রশাসনের তরফে পাত্রের বাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। চাইল্ড লাইনের এক কর্তা বলেন, ‘‘আমাদের কাছে খবর আসা মাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়ায় ওই নাবালিকার বিয়ে রোখা গিয়েছে।’’