একশো দিনের কাজ প্রকল্পে মাস্টাররোলে ভুয়ো শ্রমিকের নাম তুলে সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় গোঘাট-২ ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত বদনগঞ্জ-ফলুই ১ পঞ্চায়েতের পাঁচ সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিল ব্লক প্রশাসন। অভিযুক্তেরা এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত।
মাজদিয়া গ্রামের সাত নম্বর সংসদের একটি পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে ওই পাঁচ সুপারভাইজারের তদারকিতে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তুলে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হন প্রধান দীপালি কাইতি। বিডিও ইশতিয়াক আহমেদ খান গত ২৯ জানুয়ারি অভিযুক্তদের শো-কজ করেন। সোমবার অভিযুক্তেরা ব্লক প্রশাসনের কাজে লিখিত ব্যাখ্যা পাঠান। বিডিও জানান, সুপারভাইজারদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। তাই পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ওই সুপারভাইজাররা। তাঁদের পক্ষে তাপস সাহানের দাবি, “দলের একটা অংশ ষড়যন্ত্র করে প্রধানের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। যে ৭৪ জন শ্রমিকের নাম ভুয়ো ঢোকানো হয়েছে বলে অভিযোগ, ব্লক প্রশাসন চাইলে সেই শ্রমিকেরা গিয়ে নিজ মুখেই তাঁদের কাজে উপস্থিতির কথা জানিয়ে আসবেন।”
পঞ্চায়েত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাজদিয়ার ওই পুকুরটি সংস্কারের কাজ শুরু হয় দিন সাতেক আগে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ জন শ্রমিকের হাজিরা সংবলিত মাস্টাররোল তৈরি করছিলেন প্রবীর সরকার, তাপস সাহানা-সহ প্রকল্পের পাঁচ সুপারভাইজার। শ্রমিকদের একটা অংশ ভুয়ো মাস্টাররোল তৈরি হচ্ছে বলে প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ২৭ জানুয়ারি। পরের দিনই প্রধান অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আধিকারিক নির্মাণ সহায়ককে। সেই তদন্তেই ধরা পড়ে ওই দিনে প্রকৃত কাজে লাগা শ্রমিকের থেকে ৭৪ জনের বেশি নাম তোলা হয়েছে মাস্টাররোলে। নির্মাণ সহায়ক দাবি করেন, সে দিন বাড়তি শ্রমিকেরা কোথায় জানতে চাইলে সুপারভাইজাররা জানান, তাঁরা খেতে গিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপারভাইজাররা তাঁদের হাজির করাতে পারেননি।